স্টাফ রিপোর্টার:
সরকারী কোয়াটারের দেয়ালে ঝোপঝাড়ের বাগান।মাসের পর মাস কেটে গেলেও পরিস্কার করার যেন কেউ নেই। এসব কোয়াটারে চিকিৎসকরা থাকার কথা থাকলেও এখন সেখানে সাপের বসবাস,চার পাশে ময়লার বাগার। হাসপাতালে পরিপুর্ণ অপারেশন থিয়েটার থাকা সত্যেও গত তিন মাসে একটি মাত্র অপারেশন হয়েছে।
সরেজমিনে ময়মননিংহের নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়,বর্হিবিভাগে রোগীদের জন্য ৩ টি কাউন্টার রয়েছে পুরুষ,মহিলাওশিশুদের
বীরমু্ক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধীদের , টিকেটের মুল্য ৫ টাকা।টিকেট কেটে বৃদ্ধ, শিশু, নারী, পুরুষসহ প্রায় শতাধিক রোগী লাইনে দাড়িয়ে ডাক্তার দেখানোর জন্য অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ আবার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বের হচ্ছেন।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালে আরএমও একজন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানে) একজন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) এক জন,জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্মওযৌন) একজন
জুনিয়র কনসালটেন্ড (সার্জারী)একজন,জুনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি) একজন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) একজন,জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী) একজন,জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু) একজন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) একজন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি)একজন, মেডিকেল অফিসার দুই জন, আইএমও একজন, ইএমও একজন, প্যাথলজিষ্ট একজন, এ্যানেসথেসিষ্ট একজন ও একজন ডেন্টাল সার্জন।
অভিযোগ রয়েছে, সকাল ৮ টায় হাসপাতালের চিকিৎকরা থাকার কথা থাকলেও, কোনদিনই কোন চিকিৎসক সঠিক সময়ে হাসপাতালে থাকে না। এদিকে, হাসপাতালের কোয়াটারগুলোতে চিকিৎসক থাকার কথা থাকলে ও তারা থাকছেন জেলা শহরে। যে কারণে কোয়াটারগুলোতে সব সময় তালা ঝুলানো থাকে। যে কারণে মাস কিংবা বছরেও কোয়াটারগুলো পরিস্কার করা হয় না। এতে হাসপাতালের কোয়াটারে বাসা বেধেছে সাপ,ব্যাঙ।
এছাড়া, হাসপাতালের বর্হিবিভাগে ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের আড্ডাখানা। কোন রোগী ডাক্তারের রুম থেকে বের হলেই ওষুধ কোম্পানী প্রতিনিধিরা রোগীর প্রেসক্রিপশন নিয়েও টানাটানি করে নিয়ে ছবি তুলার হিড়িক পড়ে যায়।
হাসপাতাল সুত্র জানায়, হাসপাতালে বর্হিবিভাগে দৈনিক প্রায় ৫শ মানুষ ও জরুরী বিভাগে দৈনিক ৬০ থেকে ৭০ জন নিয়মিত চিকিৎসা নেন। গত মাসে হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারী হয়েছে ২২ টির মত। তাছাড়া, হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে সকল সুযোগ সুবিধা থাকা সত্যেও সর্বশেষ গত এপ্রিল মাসে একটি সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছিল।
কথা হয়চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি মোঃসিরাজুল ইসলাম নামে এক রোগী তিনি বলেন,স্থানীয় এমপির বাড়ির কাছেই আমার বাড়ি। এখানে দুইদিন যাবত ভর্তি আছি। এখানে চিকিৎসকরা নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন। আচারগাঁও ইউনিয়নের পুরহরি গ্রামের শরীফ আহমেদ বলেন, সকালের নাস্তায় দেয় ডিম, রুটি ও কলা। দুপুরে রাতে ভাত, মুরগির মাংস ও ডাল দেয়। খাবারের মোটামোটি ভাল বলেও দাবি করেন তিনি।হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ভর্তি রাসেল মিয়া। তার স্বজন বলেন, এখানে খাবারের মান ভাল। চিকিৎসকরাও নিয়মিত রোগী দেখেন। তবে, হাসপাতালের আঁনাচে কাঁনাচে আরও ভাল করে পরিস্কার রাখার দাবি করেন তিনি।
কথা হয় উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের শেরপুর গ্রাম থেকে আবুল কাশেম নামে এক বৃদ্ধের সাথে। তিনি বলেন,বুকের ব্যথা নিয়ে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলাম,ডাক্তার দেখে ৪ প্রকার ওষুধ লিখেছেন। এরমধ্যে এন্টাসিড ও প্যারাসিটামল হাসপাতাল থেকে দিয়েছে। বাকী দুই প্রকার ঔষধ বাইরে থেকে কিনতে বলছে।আমিতো জানি এখানে সব ওষুধ হাসপাতাল থেকে দেয়। কম দামী ওষুধ হাসপাতাল থেকে দিলেও বেশি দামি ওষুধ বাইরে থেকেই কিনতে হবে।একই গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা তাসলিমা আক্তার নামে একজন বলেন,শরীর জ্বালাপোড়া ও মাথা ব্যথা নিয়ে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলাম। আমাকেও ৫ প্রকার ওষুধ লিখে দিছে হাসপাতাল থেকে প্যারাসিটামল ও এন্টাসিড দিছে। বাইরে থেকে তিন প্রকার ওষুধ কিনতে বলছে। আমি গরিব মানুষ বাইরে থেকে ওষুধ কিনার সামর্থ্য আমার নাই।শেরপুর ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মিনা বেগম বলেন, কোমর ব্যথা ও খিচুনি নিয়ে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলাম। হাসপাতাল থেকে ৬ প্রকার ওষুধ লিখে দুইপ্রকার দিয়ে বাকীগুলো বাইরে থেকে কিনে নিতে বলেছে।
এদিকে, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি ওয়ার্ডেই রোগী আছে। তবে, রোগীর সাথে আসা লোকজনই বেশি। হাসপাতালের বিছানা ও মেঝে পরিস্কার থাকলেও আঁনাচে কোঁনাচে ময়লার বাগার মশা মাছির সয়লাব।
হাসপাতালের খাবারের ঠিকাদার গাওছুল আলম বলেন, আমি কোন লাভ ও করতে পারিনা লোকসান ও করতে পারিনা। দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা কইরা লাভটা ছাইড়া দিছি।কোন মতে আমার টাকাটা ওইটা আসলে লাভের চিন্তা করি না, আমি কাজ করে মানুষকে কষ্ট দেইনা গত দের বছরে বাজেটের সাথে বাজারের মিল নাই,যাতে মান সম্মান থাকে এই আর কি,আমার জন্য দোয়া করবেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাহমুদুর রহমান বলেন আমার হাসপাতালে কোন সমস্যা নেই। বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে এখন সরকার অনেক সুযোগ সুবিধা দেয়। যা ১০ বছর আগেও ছিল না। এখন সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলেই শতভাগ চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। তবে, কর্মরত সবাইকে কাজ করানো যায় না। সবাই যেন ঠিকমত নিজের কাজ করে তার চেষ্টা চলছে, সরকারও চেষ্টা করছেন।আমার আন্ডারে আল্লাহ তালা এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ২০০/২৫০ মেন পাওয়ার দিছেতারা যার যার দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন না করে আমি তাদের পিছনে পিছনে দৌড়াইয়া যাতে আমার টায়াট আল্লাহ তালা না করায়।এই হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স শতভাগ আছে। ওষুধও সরকার শতভাগ দিয়ে যাচ্ছে। তবে, আমাদের কাজের প্রতি অনিহা বেশি এটা ছাড়া অন্য কোন সমস্যা নাই।
তিনি বলেন, হাসপাতালে রোগীদের ভাল খাবার দেয়ার জন্য সব নির্দেশনা দেয়া আছে। এখন রাধুনী যদি ভাল রান্না করতে না পারে, সেখানে আমার কিছু করার নেই। তাছাড়া রান্না করার পর একজন ডাক্তার খাবার দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছে। সেও নিজের দায়িত্ব পালন না করে সেখানেও আমার কিছু করার নেই।হাসপাতালে শতভাগ ওষুধ দেয়া হয় দাবি করে তিনি বলেন, কেউ যদি প্যারাসিটামল, এন্টাসিড ও ভিটামিন ছাড়া অন্য কোন ওষুধ না পাওয়ার কথা বলে। সে ক্ষেত্রে আমি বলব, হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার জানেন না, হাসপাতালে কি ওষুধ আছে বা নেই। সকালে চেয়ারে বসার আগে হাসপাতালে কি ওষুধ আছে বা নেই খোঁজ নিয়ে বসলে রোগীরা শতভাগ ওষুধ পাবে। হাসপাতালের বাইরে একটি অ্যাম্বুলেন্সসহ তিনটি গাড়ি কতদিন যাবত পরে আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,তার কোন ডকুমেন্টস নেই। এগুলো ওয়াকশন দেয়ার জন্য চিঠি দিয়েছি কোন রিপ্লায় আসেনি। একটা অ্যাম্বুলেন্স সচল আছে। অনুমতি পেলে আমি পড়ে থাকা অকেজো গাড়িগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বর্তমানে হাসপাতালে শতভাগ ডাক্তার, নার্সের জন্য কোয়াটারের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানো কোন ডাক্তার, নার্স থাকে না। ময়মনসিংহ শহর থেকে এখানে এসে চিকিৎসা দেয়। এতে কোন দিনই চিকিৎসক হাসপাতালে সঠিক সময়ে আসতে পারে না। এই কারণে তবে, কোয়াটারগুলো এখন সাপের আড্ডাখানা হয়েছে। এখানে কে কিভাবে চলছে, কে কোথায় থাকছে, সব বিষয় কিন্তু আমাকে জানিয়ে করার বিধান আছে। তবে, কেউ আমাকে কিছু জানানো বা অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন মনে করে না।

