Durnitibarta.com
ঢাকারবিবার , ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গ্রেপ্তার আ.লীগ নেতাদের পাশে নেই দলীয় আইনজীবীরাও

প্রতিবেদক
Dhaka Office
ডিসেম্বর ১৫, ২০২৪ ৫:০৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিশেষ প্রতিবেদক: গণ-আন্দোলনে টানা ১৫ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন মামলায় একের পর এক গ্রেপ্তার হচ্ছেন দলটির প্রভাবশালী নেতারা। যাদের মধ্যে রয়েছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য থেকে শুরু করে সাবেক মন্ত্রী-সংসদ সদস্য (এমপি) এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা।

ভারতে আশ্রয় নেওয়া দলীয় প্রধান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ গ্রেপ্তার নেতাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে গুলি চালিয়ে হত্যার অভিযোগে এরই মধ্যে মামলা হয়েছে আড়াইশর বেশি। এর মধ্যে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির শীর্ষ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গণহত্যার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর তাদের অনেককে ট্রাইব্যুনালে হাজিরও করা হয়েছে। তবে মামলার আসামি হলেও এখনো গ্রেপ্তার না হওয়া আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলের নেতাদের বিরুদ্ধে যে-সব মামলা হচ্ছে তা আইনগতভাবে মোকাবিলার কথা ভাবছেন না তারা। এসব মামলাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও বিদ্বেষপ্রসূত’ উল্লেখ করে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার কথা জানিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নেতারা।

এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘অসাংবিধানিক’ দাবি করে আওয়ামী লীগের এসব নেতা বলেন, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলনের মাধ্যমে সরানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন তারা। নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা, দেশের অর্থনীতি ঘুরে না দাঁড়ানো, শ্রমিক বিক্ষোভ, জাতীয় স্লোগান ‘জয় বাংলা’ স্থগিত হওয়া এবং সংবিধান সংস্কারসহ বেশ কয়েকটি ইস্যুতে দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ হতে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে ভাবছে না। দলের নেতারা সাধারণ মানুষকে দুর্দশা থেকে রক্ষায় কাজ করতে চান।

তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটররা বলছেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমাতে গণহত্যা ও নির্যাতনের বহু ঘটনা ঘটেছে। আর এসব ঘটনার পরিকল্পনা ও নির্দেশদাতা ছিল আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটি বা ঊর্ধ্বতন দায় প্রমাণে এর সপক্ষে ইতিমধ্যে যথেষ্ট তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা এবং দলটির সাবেক মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণে এগুলো যথেষ্ট। ইতিমধ্যে আন্দোলনে নিহতদের স্বজন, আহত, প্রত্যক্ষদর্শীসহ কয়েকশ ব্যক্তির বক্তব্য নিয়েছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তাদের ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী হিসেবে হাজির করা হবে। এছাড়া সাক্ষ্য হিসেবে ঘটনার সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন, ভিডিও ফুটেজ এবং আসামিদের মধ্যে কথোপকথনের অডিও রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রসিকিউশন মনে করে, ন্যায়বিচার ও বিচারে স্বচ্ছতার লক্ষ্যে সংশোধিত আইনে আসামিপক্ষকে সব রকম আইনি সুবিধা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিচারে স্বচ্ছতা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। অবশ্য, ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো, প্রসিকিউশন ও লোকবল বাড়ানো না হলে বিচারকাজ বিলম্বিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা।

ট্রাইব্যুনালের পুরনো ভবনের সংস্কারকাজ প্রায় শেষ। এ ভবনে আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ (অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্কের শুনানি) শুরুর প্রত্যাশা করছে প্রসিকিউশন। এক্ষেত্রে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে বিচার কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য জানতে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল করে কোনো সাড়া মেলেনি।

কবে নাগাদ আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হবে এমন প্রশ্নে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে এটা বলা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করেই বিচারকাজ হবে। সংশোধিত আইনে আসামিদের যেসব নতুন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে তার সব অনুসরণ করা হবে।’
এই প্রসিকিউটর জানান, এখন পর্যন্ত গণহত্যার অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল থেকে ৭৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ নেতা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। এ ছাড়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ২৫ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি হয়েছে। পরোয়ানাভুক্ত অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভের পর একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের উদ্যোগ নেয় আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল), ১৯৭৩ আইনের আলোকে ২০১০ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন হয়। সেখানে ৫০টির বেশি রায় হয়। বিভিন্ন সময়ে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির শীর্ষ কয়েকজন নেতার ফাঁসির আদেশ ও তা কার্যকর হয়। এখন জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহতের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচার হচ্ছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্যে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর ৮ আগস্ট নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। গত মধ্য অক্টোবরে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারকে চেয়ারম্যান করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন হয়। একই সঙ্গে পুনর্গঠন হয় ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখা। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়ে প্রসিকিউশন পুনর্গঠন হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর পুনর্গঠন হয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

গত ২০ নভেম্বর ব্রিটিশ আইনজীবী ও লন্ডনভিত্তিক ল’ ফার্ম ‘গুয়ের্নিকা ৩৭’ গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা টবি ক্যাডম্যানকে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজের সময় আসামিপক্ষে এই ক্যাডম্যানকে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা হলেও তখন ক্ষমতাসীনদের বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এ প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, ‘এর আগে ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজের সময় আইনজীবী, পরিবার (আসামির) এবং মামলার নথি পাওয়াই অনেক কঠিন বিষয় ছিল। এখন আমরাই এসব বিষয় আদালতের নজরে এনে সহজ করে দিয়েছি। কোনো আসামি চাইলে বিদেশি আইনজীবীও নিয়োগ দিতে পারবেন।’

তবে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন উল্টো কথা। তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ আইনাঙ্গনে বর্তমান সরকারের ‘অবৈধ’ হস্তক্ষেপে এসব প্রতিষ্ঠান ‘কলুষিত’ হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘন, জবরদস্তির মাধ্যমে বিচারপতি বিদায় এবং অসাংবিধানিক উপায়ে বিচারপতি নিয়োগ হয়েছে দাবি করে তারা বলেন, ‘অবৈধ এসব সিস্টেমের (ট্রাইব্যুনাল ও আদালত) কাছে বিচারের মুখাপেক্ষী আওয়ামী লীগের কেউই হবেন না।’ এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই সরকারের গঠিত ট্রাইব্যুনালে সব মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অবৈধ এ সরকারের দেওয়া মামলা আওয়ামী লীগ মোকাবিলা করতে যাবে না।’

কিন্তু বিচারকাজ আইনিভাবে মোকাবিলা না করে অন্যভাবে করার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আইনের বাইরে কিছু করার সুযোগের প্রশ্নই আসে না। এটা হবে তাদের (আওয়ামী লীগ) অগ্রহণযোগ্য চিন্তাভাবনা ও অবস্থান। বিচারকাজে তাদের (আওয়ামী লীগ) আস্থা নাও থাকতে পারে। এটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু এটা তো কেউ আমলে নেবে না।’

শাহদীন মালিক আরও বলেন, ‘আসামিপক্ষ বলবে তারা নির্দোষ। প্রসিকিউশন বলবে, প্রমাণ আছে। এটা খুব স্বাভাবিক বিষয়। তবে, এখন একটা ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু মামলা ফাইল হয়েছে অনেক। সাধারণত হত্যা মামলায় অনেক সময় ও অনেক ধরনের সাক্ষ্যপ্রমাণ লাগে। তাই ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়াতে হবে। তদন্ত সংস্থার লোকবল বাড়াতে হবে। এক বছরেও যদি বিচার শেষ না হয় তাহলে জনগণও অধৈর্য হয়ে পড়বে।’

তবে শাহদীন মালিকের বক্তব্য খণ্ডন করে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম। তিনি বলেন, ‘গণহত্যার বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষের আইনজীবী ছিলেন, তাকে করা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। এই ট্রাইব্যুনাল জনগণ মেনে নেয়নি, আওয়ামী লীগও মেনে নেবে না। এখানে সব মামলাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও বিদ্বেষপ্রসূত।’

আওয়ামী লীগের এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, ‘অবৈধ, অসাংবিধানিক ও দখলদার সরকারের ট্রাইব্যুনালে মামলা মোকাবিলার কোনো সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের নেই। দখলদার সরকারের বিরুদ্ধে জনগণ অচিরেই রাজপথে নেমে তাদের বিতাড়িত করবে।’

আওয়ামী লীগের আইনজীবীদের তৎপরতা নেই : ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের উপদেষ্টা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের পক্ষে এখন পর্যন্ত দলটির সমর্থক শীর্ষ বা মধ্যম সারির আইনজীবীদের কেউ শুনানিতে ছিলেন না। অবশ্য আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসব আইনজীবীর অনেকেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। অনেকেই আবার আছেন আত্মগোপনে। গত ১৮ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের উপদেষ্টা ও ৯ মন্ত্রীসহ ১৩ জনকে। তাদের পক্ষে একাধিক তরুণ আইনজীবী শুনানি করবেন বলে আদালতে আরজি জানান। তবে দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে পরিচয় জানতে চাইলে তারা কথা বলতে অনীহা দেখান। গত ৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় আওয়ামী লীগ নেতা, ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলামকে। এদিন নাজমুস সাকিব ও মাহাদী হাসান এ আহমেদ নামে দুজন আইনজীবী আমুর পক্ষে শুনানি করতে আরজি জানান। আইনজীবী মাহাদী হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, জ্যেষ্ঠ বা শীর্ষ আইনজীবীরা শুনানি করবেন কি না তা আপাতত তার জানা নেই।

দলের নেতাদের পক্ষে শুনানিতে ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে দলটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে এসব কোনো মামলাই টিকবে না। এগুলোর একটি মামলাও সাংবিধানিক ও আইনসম্মত নিয়মে হয়নি। ফলে এসব মামলা মোকাবিলার কোনো কারণ নেই।’

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের দুই লাখের বেশি নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে গেছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা দেশ ছেড়েছেন। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ এরই মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের শতাধিক নেতার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। তবে এসব মামলা নিয়ে চিন্তিত নন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মামলা নিয়ে ভাবছে না। এসব মামলা মানুষের ভেতরে অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। যেসব ইস্যুতে দেশের মানুষের আস্থা-বিশ্বাসের অভাব আছে সেগুলোতে আওয়ামী লীগেরও কোনো আস্থা নেই।’