Durnitibarta.com
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পঞ্চগড়ে প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগে শিক্ষককে অবরুদ্ধ

প্রতিবেদক
Dhaka Office
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৫ ৩:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগড় এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক রেজিব উদ্দীন (৫৭) মির্জা রুহুল আমিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গত বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা ও চাচীরা বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে লাঞ্চিত করেন। পরে স্থানীয় শতাধিক মানুষ বিদ্যালয়ে এসে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং বিচারের দাবি জানান। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মীমাংসার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং শিক্ষককে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থী জানান, টিফিনের সময় শিক্ষক রেজিব উদ্দীন তাকে বাথরুমে ডেকে নিয়ে পরনের কাপড় খোলার চেষ্টা করেন এবং অশ্লীল আচরণ শুরু করেন। পরে তিনি ঘটনাটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আলফা বেগমকে জানান।

শিক্ষিকা আলফা বেগম বলেন, “সেদিন বিদ্যালয়ে আমি ও আরেক শিক্ষক ছিলাম। প্রধান শিক্ষক অফিসে ছিলেন। মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে জানায়, রেজিব উদ্দীন স্যার তাকে নোংরা প্রস্তাব দিয়েছে। শিশুটি ছোট হওয়ায় বিস্তারিত কিছু বলেনি।”

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বলেন, “আমার মেয়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

অভিযুক্ত শিক্ষক রেজিব উদ্দীন অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি বাথরুম পরিষ্কারের কাজে শিক্ষার্থীকে নিয়েছিলেন এবং তাকে ১০ টাকা দিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল আজম জানান, বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেননি। পরে স্থানীয় উত্তেজনা প্রশমনের জন্য শিক্ষককে নিরাপত্তার স্বার্থে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে বাড়ি পাঠানো হয়।

ইউপি সদস্য নিত্যচন্দ্র বর্মণ ও ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ময়নুল হক বলেন, “চাকরির শেষ সময়ে এসে ওই শিক্ষকের ওপর শয়তান ভর করেছে। আমরা ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার থেকে পুরো ঘটনা শুনেছি। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ নিয়ে বসার কথা রয়েছে।”

গ্রামপুলিশ হরদেব চন্দ্র বর্মণ জানান, তিনি খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখেন পরিবেশ তখন শান্ত হয়ে গেছে।