অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে হেফাজতে ইসলামকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৎপরতা বেড়েছে। কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক এই সংগঠনকে কাছে টানতে বিএনপিসহ বিভিন্ন দল সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসছে।
রাজনৈতিক সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি ইসলামপন্থী দল ইতিমধ্যে নির্বাচনী সমঝোতার পথে রয়েছে। এসব দলের অন্তত চারটি সরাসরি হেফাজত-সংশ্লিষ্ট এবং তারা অভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এ প্রেক্ষাপটে হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্ব বিএনপির কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
ইতিমধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে আগস্টের শুরুতে বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমদ ও নজরুল ইসলাম খান চট্টগ্রামে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী শুরু থেকেই জামায়াতে ইসলামীর বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি মওদুদীর মতাদর্শের সমালোচনা করে বলেন, “জামায়াত সহিহ ইসলামী দল নয়। তারা মদিনার ইসলাম নয়, বরং মওদুদীর ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চায়।”
সাম্প্রতিক জাতীয় উলামা মাশায়েখ সম্মেলনেও তিনি ইসলামি দলগুলোকে সতর্ক করে বলেন, আগামী নির্বাচনে এমন কোনো দলের সঙ্গে জোট করা যাবে না, যাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস সম্পর্কে পূর্বসূরি আলেমরা সতর্ক করে গেছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অবস্থান বিএনপির জন্য সহায়ক হতে পারে। কারণ বর্তমানে জামায়াতের সঙ্গে একযোগে আন্দোলনে থাকা পাঁচটি কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলের মধ্যে চারটির সঙ্গে হেফাজতের সম্পর্ক রয়েছে।
তবে হেফাজতের ভেতরে বাবুনগরীর এই বক্তব্য নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃত্ব থেকে রাজনৈতিক মন্তব্য বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। যদিও প্রবীণ আলেম হিসেবে প্রকাশ্যে কেউ আপত্তি তুলছেন না।
অন্যদিকে জামায়াতের মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “হেফাজতের আমিরকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু ইসলামি শক্তির ঐক্যের বিষয়ে এমন বক্তব্য কোনো খাঁটি মোমিনের কাছ থেকে কাম্য নয়।”
ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান মন্তব্য করেন, “হেফাজত নীতিগতভাবে নিরপেক্ষ থাকার কথা থাকলেও এখন মনে হচ্ছে তারা পক্ষ নিচ্ছে, যা ইসলামি ঐক্যের জন্য শুভ হবে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, হেফাজতের ‘ভোট ব্যাংক’কে কেন্দ্র করে বিএনপি ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে। তবে সংগঠনের ভেতরে বড় ধরনের মতবিরোধ দেখা দিলে তাদের অবস্থান আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

