Durnitibarta.com
ঢাকাশুক্রবার , ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সংরক্ষিত নারী আসনে চমক হতে পারেন লিলি

প্রতিবেদক
Dhaka Office
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ ৮:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজপথের লড়াকু মুখ কি এবার পা রাখছেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে? ময়মনসিংহের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটিই নাম নিয়ে চলছে জোর আলোচনা—তানজীন চৌধুরী লিলি। দলীয় অন্দরে নীরব হিসাব-নিকাশ, তৃণমূল নেতাকর্মীদের জোরালো দাবি এবং নারী নেতৃত্বের প্রশ্নে নতুন বার্তা—সব মিলিয়ে সংরক্ষিত মহিলা আসনে তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ কৌতূহল ও আলোড়ন।

তৃণমূল থেকে জাতীয় পরিসর: তানজীন চৌধুরী লিলির রাজনীতিতে হাতেখড়ি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে। ছাত্রজীবনেই রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সরব ভূমিকা রেখে নিজেকে একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত করে তোলেন তিনি। পরবর্তীতে নিজ জেলা ময়মনসিংহে ফিরে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর গৌরীপুর উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় সূত্র বলছে, জেলা থেকে কেন্দ্র—সব পর্যায়ে তার নিরবচ্ছিন্ন উপস্থিতি তাকে মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে রেখেছে।

আন্দোলনের অগ্রভাগের যোদ্ধা: ১/১১-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও সামনের সারিতে ছিলেন লিলি। রাজনৈতিক প্রতিকূলতায় মামলা ও হামলার শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। তৃণমূলের অনেক নেতার মতে, “দলের দুঃসময়ে যারা মাঠ ছাড়েননি, তাদের মূল্যায়নের উপযুক্ত সময় এখনই।”

নিজের প্রত্যাশা জানিয়ে লিলি বলেন, “সংরক্ষিত আসন নারীদের কণ্ঠস্বরকে সংসদে আরও শক্তিশালী করার একটি সুযোগ। দল সুযোগ দিলে আমি নারী, তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে আমৃত্যু কাজ করে যেতে চাই।”

রাজনীতির বাইরেও সাফল্যের দ্যুতি: রাজনীতির বাইরে ক্রীড়াঙ্গনেও রয়েছে তার বর্ণিল সাফল্যের গল্প। জাতীয় ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অ্যাথলেটিকসে একাধিক স্বর্ণ ও রৌপ্য পদক অর্জন করেছেন তিনি। ২০০৫ সালে মালয়েশিয়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদের হাত থেকে ‘শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ’ সম্মাননা লাভ করেন, যা তাকে এনে দিয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এছাড়া ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের আমন্ত্রণে ‘ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটর লিডারশিপ প্রোগ্রাম’-এ অংশ নেন তিনি। থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রেও নেতৃত্ব উন্নয়ন বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এই নেত্রী।

কেন আলোচনায় লিলি? দলীয় বিশ্লেষকদের মতে, লিলির মনোনয়নের পেছনে কয়েকটি শক্তিশালী কারণ কাজ করছে:

  • সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা: তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত সক্রিয় ভূমিকা।

  • নারী নেতৃত্ব: মাঠপর্যায়ে নারী ভোটারদের সংগঠিত করার দক্ষতা।

  • আন্তর্জাতিক মানদণ্ড: নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও বিশ্বজুড়ে কাজের অভিজ্ঞতা।

  • গ্রহণযোগ্যতা: জেলা রাজনীতিতে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও সব মহলে গ্রহণযোগ্যতা।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, লিলি সংসদে গেলে ময়মনসিংহের নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। এখন সবার নজর দলীয় হাই কমান্ডের দিকে—তৃণমূলের এই লড়াকু নেত্রীর হাতেই কি উঠছে সংরক্ষিত আসনের টিকেট? সময় ও দলীয় সিদ্ধান্তই দেবে সেই কাঙ্ক্ষিত উত্তর।