
রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে মুকাররম নামের এক সৌদি প্রবাসীর ৮ টুকরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন প্রেমিকা তাসলিমা বেগম। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গত রোববার (১৭) দুপুরে মুগদার মান্ডা এলাকার প্রথম গলির একটি বাড়ির বেজমেন্ট থেকে প্রবাসী মুকাররমের মরদেহের ৭টি টুকরা উদ্ধার করা হয়। তবে ওই সময় ঘটনাস্থলে দেহের ৭ টুকরো পাওয়া গেলেও মরদেহের মাথাটি পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে একই দিন রাত আড়াইটার দিকে খবর পেয়ে মানিকনগরের পাকা রাস্তার মাথায় দু’টি বাড়ির মাঝের গলি থেকে কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় কাটা মাথাটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার তাসলিমা বেগমসহ সন্দেহভাজন আরেক আসামি আব্দুল মতিন দেওয়ানকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক মিঠু। পরে তাসলিমার জবানবন্দি গ্রহণের পাশাপাশি আব্দুল মতিনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।
পরবর্তীতে শুনানি শেষে আদালত তাসলিমার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নথিভুক্ত করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অন্যদিকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ অপর আসামি আব্দুল মতিন দেওয়ানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিহত প্রবাসী মুকাররম মিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সেখানে তাসলিমা বেগমের সঙ্গে তার পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠলে গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে আসেন মুকাররম। এরপর সরাসরি মুগদার মান্ডা এলাকায় তাসলিমার বান্ধবী হেলেনা বেগমের ভাড়া বাসায় ওঠেন তিনি। পরবর্তীতে মুকাররমের আসার খবরে তাসলিমা বেগমও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মুগদার ওই বাসায় আসেন। সেখানে তাদের বিয়ে ও ৫ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে মুকাররমকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ৮ টুকরো করে পলিথিনে ভরে ময়লার মধ্যে ফেলে দেয়া হয়। পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রেমিকা ও তার এক বান্ধবী মিলে মুকাররমকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত রোববার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের পর মুগদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জালাল উদ্দিন জানিয়েছিলেন, মান্ডার প্রথম গলির আব্দুল করিম রোডের শাহনাজ ভিলার বেজমেন্ট থেকে ৭ টুকরো লাশটি উদ্ধার করা হয়। তবে সেখানে তার মাথা পাওয়া যায়নি। দেহটি পচা-গলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। পেট থেকে ভুঁড়ি বেরিয়ে ছিল। তবে ওইদিন তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের এই কর্মকর্তা ওইদিন আরও জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ৬ থেকে ৭ দিন আগে ওই ব্যক্তিকে অন্য কোথাও হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে পলিথিনে ভরে বাড়িটির বেজমেন্টে ফেলে দেয়া হয়। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাই চলছে।
এ ঘটনায় নিহত মুকাররমের চাচা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মুগদা থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
প্রকাশকঃ খাইরুল ইসলাম আল আমিন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৯৫ পাটবাজার (পুকুরপাড়), ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা, ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ , ওয়েবসাইট-www.durnitibarta.com, মোবাইলঃ 01710-492468, ইমেইল- durnitibartadesk@gmail.com