
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী সফট স্কিল উন্নয়নবিষয়ক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের পেশাগত উন্নয়ন ও স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে জনপ্রতি ১৮ হাজার টাকা করে এককালীন অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ৪ আগস্ট উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে এ সনদ ও অনুদান বিতরণ করা হয়। ‘বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হাসান কিবরিয়ার সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রহমান। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন এবং তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৩০ জন প্রান্তিক পেশাজীবী প্রত্যেকের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে ১৮ হাজার টাকা করে এককালীন অনুদান স্থানান্তর করা হয়েছে। এ আর্থিক সহায়তা তাদের নিজ নিজ পেশার উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয় এবং আয়বর্ধক কার্যক্রম সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
প্রশিক্ষণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কুমার, মুচি, নাপিত এবং বাঁশ বেত পণ্য প্রস্তুতকারীসহ বিভিন্ন পেশার সঙ্গে জড়িত ৩০ জন প্রান্তিক পেশাজীবী অংশগ্রহণ করেন। ১০ দিনের এ প্রশিক্ষণে সফট স্কিল উন্নয়ন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, গ্রাহকসেবা, ব্যবসা পরিচালনা, যোগাযোগ দক্ষতা, সঞ্চয়ের গুরুত্ব, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং আধুনিক কর্মপদ্ধতি বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে সমাজসেবা অধিদপ্তরের দুইজন কর্মকর্তা মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বিভিন্ন সেশনে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হাসান কিবরিয়া বলেন, এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো প্রান্তিক পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক কর্মপদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত করা এবং তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি তারা কীভাবে নিজেদের পেশাকে আরও লাভজনক ও টেকসই করা যায়, সে বিষয়েও বাস্তবভিত্তিক ধারণা পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নতুন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সরকার প্রদত্ত এই আর্থিক সহায়তা তারা যদি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেন, তাহলে নিজেদের পেশায় আরও সফল হওয়ার পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল হয়ে পরিবারের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রহমান বলেন, সরকার সমাজের প্রান্তিক ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে নানা ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। শুধু আর্থিক সহায়তা প্রদান করাই নয়, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একজন মানুষ নিজের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, আজ যারা এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন, তারা যেন অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগান। সরকার যে এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে, তা যেন সঠিকভাবে বিনিয়োগ করে নিজ নিজ পেশাকে আরও সমৃদ্ধ করেন। তাহলে এই সহায়তা ভবিষ্যতে আপনাদের জন্য স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরি করবে।
তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে বলেন, পরিশ্রম, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে সফলতা অবশ্যই আসবে। আপনারা নিজেদের উন্নয়নের পাশাপাশি অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করবেন। সরকার ভবিষ্যতেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
প্রকাশকঃ খাইরুল ইসলাম আল আমিন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৯৫ পাটবাজার (পুকুরপাড়), ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা, ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ , ওয়েবসাইট-www.durnitibarta.com, মোবাইলঃ 01710-492468, ইমেইল- durnitibartadesk@gmail.com