ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ও হেরোইনসহ ফারুক মিয়া (৫১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফারুক পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে প্রায় এক কিলোমিটার ধাওয়া করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা ৯টি মামলার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, গৌরীপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকারের দিকনির্দেশনায় এবং ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমনের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় এসআই উমর ফারুকের নেতৃত্বে এএসআই শাহ আলমসহ পুলিশের একটি বিশেষ দল উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ফারুক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা প্রায় এক কিলোমিটার ধাওয়া করে তাকে আটক করতে সক্ষম হন।
গ্রেফতার ফারুক মিয়া সোহাগী ইউনিয়নের বগাপুতা গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে। তার দেহ তল্লাশি করে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফারুক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। পুলিশি রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মোট ৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেফতার ও জামিনে মুক্ত হওয়ার পরও সে পুনরায় মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন বলে পুলিশের অভিযোগ।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাজ্জাদ রোমন জানান, গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাদকমুক্ত ঈশ্বরগঞ্জ গড়ে তুলতে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

