ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় একটি পুলের নিচে ডোবার পানি থেকে নিখোঁজ এক হিন্দু নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে মরদেহটি উদ্ধারের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত নারীর নাম রেনু রানী (৬০) (স্থানীয়ভাবে রেনু মালা নামে পরিচিত)। তিনি ফুলপুর উপজেলার পয়ারী দ্বিতীয় খণ্ড গ্রামের ননীগোপাল সেনের স্ত্রী।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২২ জুন) বিকেল ৪টার দিকে রেনু রানী তাঁর সাত বছর বয়সী নাতি রুদ্রকে তারাকান্দার বাগুন্দা কেজি স্কুলে প্রাইভেট পড়াতে নিয়ে যান। নাতিকে স্কুলে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তৈয়রকান্দী গ্রামের আব্দুল জলিলের স্ত্রী নিকট থেকে একটি ছাতা ধার নিয়ে তিনি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
বিকেল পৌনে ৬টার দিকে নাতি রুদ্র প্রাইভেট শেষে একা একা বাড়ি ফিরে আসে। বাড়ির লোকজন তাকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, ঠাম্মা (দিদিমা) তাকে স্কুলে দিয়েই বাড়ির উদ্দেশ্যে চলে এসেছিলেন। এরপর থেকেই রেনু রানীর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বজনরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে একপর্যায়ে ৩ নম্বর কাকনী ইউনিয়নের তৈয়রকান্দী গ্রামে মো. আব্দুল জলিলের বাড়ির পাশের একটি পুলের নিচের ডোবায় নিখোঁজ নারীর ধার নেওয়া ছাতাটি পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ছাতা পাওয়ার সূত্র ধরে স্থানীয়রা পুলের নিচের পানিতে এক নারীর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে তারাকান্দা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহটি পানি থেকে ওপরে তোলে।
এদিকে নিখোঁজের খবর পেয়ে রেনু রানীর স্বামী ননীগোপাল সেন ও তাঁর ছেলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহটি নিখোঁজ রেনু রানীর বলে শনাক্ত করেন। একমাত্র অভিভাবককে হারিয়ে পরিবারটিতে এখন শোকের মাতম চলছে।
ফুলপুর-তারাকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রাকিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সংবাদ পাওয়া মাত্রই থানা পুলিশের একটি টিম তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে মরদেহটি সনাক্তকরণের পর জানা গেছে তিনি ফুলপুরের পয়ারী গ্রামের নিখোঁজ রেনু রানী। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

