Durnitibarta.com
ঢাকারবিবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিল যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া

প্রতিবেদক
Dhaka Office
সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৫ ৮:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যেই এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল পশ্চিমা বিশ্বের তিন প্রভাবশালী দেশ। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র স্বীকৃতির আন্দোলন নতুন মাত্রা পেল। তবে স্বীকৃতির ঘোষণার সময়ও গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের লাগাতার হামলা চলছিল, যেখানে প্রাণহানি, দুর্ভিক্ষ ও ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞে পরিস্থিতি দিন দিন আরও নাজুক হয়ে উঠছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা দেন, “আমরা শান্তির সম্ভাবনা ও দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানকে জীবিত রাখতে কাজ করছি। এর অর্থ হলো— একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত ইসরায়েল এবং একটি কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র। কিন্তু বাস্তবে এর কোনোটিই আমরা দেখতে পাচ্ছি না।”

তিনি আরও বলেন, “এই সমাধান হামাসের জন্য কোনো পুরস্কার নয়। এর মানে হলো— হামাসের কোনো ভবিষ্যৎ থাকতে পারবে না, তারা সরকারে বা নিরাপত্তায় কোনো ভূমিকায় থাকতে পারবে না। আগামী সপ্তাহগুলোতে হামাসের অন্যান্য নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপ নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।”

স্টারমার গাজায় চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, “গাজায় মানবসৃষ্ট মানবিক সংকট নতুন গভীরতায় পৌঁছেছে। ইসরায়েলি সরকারের নিরলস বোমাবর্ষণ, দুর্ভিক্ষ এবং ধ্বংসযজ্ঞ একেবারেই অসহনীয়। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন— উভয় দেশের সাধারণ মানুষ শান্তিতে বসবাসের যোগ্য।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার স্বীকৃতির পর ইউরোপ ও এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ একই পথে হাঁটতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়। ওয়াশিংটন এখনো ইসরায়েলের কৌশলগত অংশীদারিত্বকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই স্বীকৃতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, পশ্চিমা তিন দেশের সিদ্ধান্ত ইসরায়েলকে চাপের মুখে ফেলবে এবং ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র স্বীকৃতির আন্দোলনকে এগিয়ে নেবে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি নেতারা এই সিদ্ধান্তকে “অযৌক্তিক ও পক্ষপাতদুষ্ট” আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।