বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পুলিশে প্রায় ১ লাখ কনস্টেবল (ট্রেইনি রিক্রটমেন্ট কনস্টেবল-টিআরসি) নিয়োগ হয়। ওই সময় এই নিয়োগে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এক জেলার বাসিন্দাকে অন্য জেলার কোটায় নিয়োগ দেওয়া হয়। আবার রাজনৈতিক সুপারিশের তালিকা ধরে কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধা তালিকায় স্থান পাওয়ার পরও গোয়েন্দা রিপোর্টের কথা বলে অনেককে চাকরিতে নিয়োগ না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে কৌশলে পৃথক কক্ষে বিশেষ পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণ করে উত্তীর্ণ দেখিয়ে কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। আবার লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেলেও আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বিরোধী দলীয় রাজনীতির সাথে জড়িত থাকা কোনো ব্যক্তির পরিচয় জানার পর ওই প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই নিয়োগে অনিয়ম তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) পুলিশ সদর দপ্তর এ সংক্রান্ত একটি কমিটি গঠন করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এডিশনাল ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং) মো. আবু হাসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় দেশের সকল জেলায় ৬৪টি কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি জেলার জেলা পুলিশ সুপারকে সভাপতি করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হচ্ছে। কমিটিকে ছয়টি বিষয়ে তদন্ত করতে বলা হয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে, ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি প্রাপ্তি সংক্রান্ত; অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে কৌশলে পৃথক কক্ষে বিশেষ পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত; প্রার্থী বা তার পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগযোগ্য বা নিয়োগ অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে কি না; লিখিত পরীক্ষার নম্বর ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের মধ্যে অস্বাভাবিকতা রয়েছে কি না; প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত ইত্যাদি।
কমিটিকে এসব বিষয় তদন্ত করে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিটি জেলার তদন্ত রিপোর্ট পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।

