টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি সভায় বাধা দেওয়ায় এক স্থানীয় বাসিন্দার বসতবাড়িতে সপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। গত ২২শে মে (শুক্রবার) রাতে উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল বিকেলে হাতিয়া গ্রামের বাজারে দশকিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা একটি গোপন বৈঠকের আয়োজন করে। আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে এলাকায় বড় ধরনের নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল এই বৈঠকের উদ্দেশ্য। বিষয়টি টের পেয়ে সেসময় বাজারে অবস্থানরত হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা আজমত মোল্লার দুই ছেলে ফরহাদ ও ইকবাল বাজারে গিয়ে ওই বৈঠকে বাধা দেন। তারা সাফ জানিয়ে দেন, হাতিয়া গ্রামে স্বৈরাচারের কোনো দোসরদের স্থান হবে না এবং বাজারে আওয়ামী লীগের কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বৈঠক করতে দেওয়া হবে না। একপর্যায়ে স্থানীয়দের তোপের মুখে লুৎফর রহমানের ওই নাশকতামূলক বৈঠকটি পণ্ড হয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, বৈঠক বানচাল হওয়ার ক্ষোভ থেকে ওই দিন রাতেই (আনুমানিক ১১টার দিকে) লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আজমত মোল্লার পুরো পরিবারকে পুড়িয়ে মারার উদ্দেশ্যে তাদের বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলাকারীরা প্রথমে আজমত মোল্লার ছোট ছেলে ইকবাল হোসেনের শোবার ঘরের সাথে লাগানো খড়ের গাদায় আগুন দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসতে থাকলে লুৎফর রহমান ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সম্মিলিত চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় এক ভয়াবহ প্রাণহানি ও বড় ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পায় পরিবারটি।
ভুক্তভোগী আজমত মোল্লার ছোট ছেলে ইকবাল হোসেন ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করে বলেন, “বৈঠকে বাধা দেওয়ায় লুৎফর মেম্বার আমাদের সপরিবারে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিল। বর্তমানে আমাদের পরিবারের সকল সদস্য চরম নিরাপত্তাহীনতা ও জীবননাশের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।” তিনি আরও জানান, আগামী ১/২ দিনের মধ্যে পরিবারের সকল সদস্যরা মিলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে অতি দ্রুত লুৎফর রহমান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলাসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তারা এই চিহ্নিত আওয়ামী সন্ত্রাসীর কঠিন থেকে কঠিনতম বিচার দাবি করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এলাকায় লুৎফর রহমান আওয়ামী লীগের একজন ‘ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত। তিনি টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহযোগী ছিলেন। গত ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তিনি গোপনে এলাকায় বিভিন্ন অপতৎপরতা ও নাশকতার নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। লুৎফর ও তার বাহিনীর ভয়ে এখনো অনেক সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে কালিহাতী থানায় ইতোমধ্যে একাধিক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি থানায় রুজু হওয়া একটি সহিংসতা ও নাশকতা মামলার এজাহার কপি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ওই মামলায় লুৎফর রহমানকে ১৯ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
এসব অভিযোগ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত লুৎফর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনার পর থেকেই তিনি এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

