Durnitibarta.com
ঢাকাবুধবার , ১৯ আগস্ট ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দন্ত চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগ, হিলোচিয়ায় অনুমোদনহীন এক্স-রে ও চিকিৎসাসেবা

প্রতিবেদক
Dhaka Office
আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হিলোচিয়া ইউনিয়নে দন্ত চিকিৎসার নামে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন, পেশাগত যোগ্যতা ও দক্ষ জনবল ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ও নিম্নআয়ের রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট একটি দন্ত চিকিৎসা চেম্বারে বেশ কয়েকজন রোগী চিকিৎসা নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন শিশুও ছিল। চেম্বারের দেয়ালে দেবব্রত ঘোষ নামে একজন দন্ত চিকিৎসকের সনদ ঝুলতে দেখা যায়।
তবে ওই সময় চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দেওয়া এক নারী নিজেকে ডিপ্লোমাধারী বলে দাবি করেন। তিনি কী পরিচয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং তার চিকিৎসাসেবা দেওয়ার আইনগত অনুমোদন রয়েছে কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। প্রতিবেদকের ছবি ও ভিডিও ধারণেও তিনি বাধা দেন। একপর্যায়ে তিনি প্রতিবেদকের প্রশ্ন এড়িয়ে চেম্বারের মালিক প্রসনজিৎ দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

চেম্বারে ব্যবহৃত একটি ব্যবস্থাপত্রের প্যাডও পাওয়া যায়। সেখানে শুধু ‘মা ডেন্টাল কেয়ার’ নামটি ছাপানো রয়েছে। কোনো চিকিৎসকের নাম, পদবি বা পেশাগত পরিচয় উল্লেখ করা ছিল না।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চেম্বারটি প্রসনজিৎ দাস নামের এক ব্যক্তির বলে তারা জানেন।
এ বিষয়ে চেম্বারের মালিক প্রসনজিৎ দাসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি এসে বক্তব্য দেবেন বলে জানান। তবে পরবর্তীতে তিনি আর বক্তব্য দিতে আসেননি।
অন্যদিকে, মুঠোফোনে দন্ত চিকিৎসক দেবব্রত ঘোষের সঙ্গে কথা হয়। তিনি দাবি করেন, চেম্বারটি তার এবং তিনি সপ্তাহে একদিন সেখানে রোগী দেখেন।
ডিপ্লোমাধারী কেউ দাঁতের সার্জারি, দাঁত তোলা বা চিকিৎসাসেবা দিতে পারেন কি না জানতে চাইলে দেবব্রত ঘোষ বলেন, ‘না’। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ব্যক্তি দাঁতের সার্জারি, দাঁত তোলা বা কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা দিতে পারেন না।
এক্স-রে মেশিন পরিচালনার বিষয়ে দেবব্রত ঘোষ বলেন, তারা এক্স-রে করতে পারেন। তবে এর জন্য একজন মেডিকেল টেকনিশিয়ান থাকা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, তার অনুপস্থিতিতে কেউ যদি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন, তাহলে সেটি প্রতারণার শামিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চেম্বারে এক্স-রে করার ব্যবস্থা থাকলেও এর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে প্রশিক্ষিত ও অনুমোদিত এক্স-রে টেকনিশিয়ান রয়েছেন কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। এরপরও রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, দন্ত চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত নিবন্ধন, প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন এবং এক্স-রে পরিচালনার বৈধতা যাচাই না করে কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চলতে পারে?
তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের দ্রুত তদন্ত দাবি করেছেন। তদন্তের মাধ্যমে চেম্বারটির বৈধতা, চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের যোগ্যতা ও পেশাগত নিবন্ধন এবং এক্স-রে পরিচালনার প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, তা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুস সালেহীন বলেন, ‘আপনার কাছ থেকেই বিষয়টি জানতে পারলাম। এ ধরনের অপচিকিৎসার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের চেম্বারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’