ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ১৬৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ইন্টারনেট বিল বাবদ বরাদ্দকৃত ১৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হলেও তা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে পরিশোধ করা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ—ভাউচার জমা দেওয়ার পরও তাঁরা বিলের টাকা পাননি। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সরকারি নথি অনুযায়ী, ভালুকা উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক, ভালুকা শাখা থেকে উপজেলার ১৬৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট বিলের পুরো বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
কিন্তু টাকা উত্তোলনের পর কোন বিদ্যালয়কে কত টাকা এবং কবে পরিশোধ করা হয়েছে—সংবাদকর্মীদের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান তার কোনো বিদ্যালয়ভিত্তিক অর্থ পরিশোধের তালিকা বা সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট নথি দেখাতে পারেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, তাঁরা যথাসময়ে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ইন্টারনেট বিলের ভাউচার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন। কিন্তু অর্থবছর শেষ হয়ে গেলেও তাঁরা বিলের টাকা হাতে পাননি।
ভুক্তভোগী এক প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘অফিসে ইন্টারনেট বিলের ভাউচার জমা দিয়েছি। কিন্তু এখনো টাকা পাইনি। বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট সেবা চালু রাখতে বাধ্য হয়ে নিজের পকেটের টাকা দিয়ে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান: অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বিদ্যালয়গুলোর ইন্টারনেট বিল পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারি টাকা আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই।” তবে সুনির্দিষ্ট ব্যাংক লেনদেন বা বিদ্যালয়ভিত্তিক পরিশোধের তালিকা তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেন: তিনি জানান, “বিল পরিশোধ না করার বিষয়টি কয়েকজনের কাছ থেকে শুনেছি। এ বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করেছি, যাতে প্রত্যেক বিদ্যালয়ের প্রাপ্য অর্থ সঠিকভাবে পরিশোধ করা হয়। তবে তিনি বিল পরিশোধ না করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হবে এবং সত্যতা মিললে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম: তিনি বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং সরকারি অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যয় হয়েছে কি না, তা যাচাই করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা মিললে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সরকারি নথিতে ১৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা উত্তোলনের তথ্য থাকলেও বিদ্যালয়ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট ব্যয়ের হিসাব না থাকায় ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনিক বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাই করা হলে এই বরাদ্দের প্রকৃত হিসাব ও স্বচ্ছতা বেরিয়ে আসবে।

