নিজস্ব প্রতিবেদক: কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুরে অবস্থিত জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বাহার উদ্দিন ভূঁইয়াকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আইডি থেকে অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ডা. বাহার উদ্দিনের সমর্থক ও সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, একটি কুচক্রী মহল স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।
জানা গেছে, গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে ধারাবাহিক লেখালেখি চলছে। বৃহৎ একটি চিকিৎসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালকের দায়িত্বে থাকায় তাঁকে প্রতিদিন রোগীদের চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন রাখা, কর্মী সমন্বয়, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন বিভাগ পরিচালনার মতো বহুমাত্রিক কাজ সামলাতে হয়। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে চাকরিপ্রত্যাশীদের নানা প্রত্যাশা থাকে। অনেকের প্রত্যাশা পূরণ না হলে অসন্তোষ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক হলেও, কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া অনলাইনে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপপ্রচার চালানো গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৯৮৯ সালে ২৫০ শয্যা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ৫০০-এর বেশি শয্যার একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। এর পেছনে বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক ডা. বাহার উদ্দিন ভূঁইয়ার দীর্ঘদিনের অবদান রয়েছে এবং তিনি শিল্প গ্রুপ ‘ইসলাম গ্রুপ’-এর আস্থার জায়গায় থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময় ২৭ সদস্যের র্যাপিড রেসপন্স টিম গঠনসহ সংক্রমণ মোকাবিলায় তাঁর ভূমিকা এবং ২০২২ সালের নভেম্বরে মাঠ কমপ্লেক্স উদ্বোধনসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।
সেবাগ্রহীতা ও সচেতন মহলের মতে, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তথ্য-প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি বা যাচাইহীন তথ্য প্রচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন করা এক ধরনের অপরাধ।
বাজিতপুরসহ বৃহত্তর কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের আস্থার প্রতীক এই চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ব্যক্তিগত বিরোধ বা অনলাইন বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও সেবার মান বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয়রা।

