দিনাজপুরে দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের ২৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জনিয়েছে,আটককৃতদের রবিবার আদালতের প্রেরণ করা হবে।
শনিবার দিনাজপুরে কেন্দ্রঘোষিত ‘গণমিছিল’ কর্মসূচি শেষে বিএনপির ৯ কর্মীকে আটক করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পৃথক কর্মসূচি থেকে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের ১৬ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের দাবি, তারা যে ২৫ জনকে আটক করেছে, তাদের জামায়াতের কর্মসূচি থেকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে কেউ বিএনপির কর্মী কি না, তা তাদের জানা নেই।
এদিকে বিএনপি ও জামায়াতের অভিযোগ শান্তিপূর্ণ গণমিছিল থেকে নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে পুলিশ আটক করেছে। তাদের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছে পুলিশ। যা স্বাধীন রাষ্ট্রের পক্ষে চরম অবমাননা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন।
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি বলেছেন, শনিবার বেলা একটায় শহরের জেল মোড় এলাকায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিল ও সমাবেশ করেছি। কর্মসূচি শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের ৯ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আমাদের আটক নেতাকর্মীদের জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী বলা হচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি বলেন, বিএনপির আটককৃতরা হলেন, বীরগঞ্জ উপজেলার ছয়ঘটি এলাকার মৃত বেলাল হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম (৬৬), সনকা গ্রামের মৃত আবদুল খালেকের ছেলে মুসফুল (৩৪), একই গ্রামের মৃত মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪০), ঘোড়াবন্দ এলাকার জামিনুর রহমানের ছেলে শাহিন আলম (২৩),সদর উপজেলার উত্তর শিবপুর গ্রামের মেছের আলীর ছেলে শাহিন আলম (২৪) বাদেরুল ইসলামের ছেলে তারেক হোসেন (২০), কাহারোল উপজেলার ভেলুয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে আল আমিন (৩২), তরলা গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে সজল ইসলাম (১৯) ও ইমরান আলী (২৫)।
জামায়াতের আটককৃতরা হলেন, আলামীন হোসেন (৪০), এরশাদ আলী (৩০) আলামিন ইসলাম (৩২), আজগর স্লী (৪৬), আতাহার আলী (৫০), হাসিনুর রহমান (২৫)সহ ১৬ জন।
শহর জামায়াতের আমির রেজাউল করীম জানান, কেন্দ্র ঘোষিত যুগপৎ আন্দোলন শান্তিপূর্ণ গণমিছিল থেকে নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে। যা স্বাধীন দেশে কখনো কাম্য নয়।
শনিবার দুপুর ১২টায় শহরের জেল মোড় এলাকায় দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। রাজশাহীর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়ত মিজানুর রহমান মিনু নেতৃত্বে দুই হাজারের বেশি নেতাকর্মী মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি শহরের মডার্ন মোড়, নিমতলা, মুন্সিপাড়া এলাকা ঘুরে আবার দলীয় কার্যালয়ে শেষ হয়। সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু।
এদিকে একই সময় পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরও গণমিছিল কর্মসূচির সময় ১৬ জনকে আটক করে পুলিশ।
জামায়াতে ইসলামীর ডা. আমীর শফিকুর রহমানের মুক্তির দাবি ও ১০ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে এ গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীরুল ইসলাম জানান, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযানে ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে এদের মধ্যে বিএনপির আছে কিনা জানা নেই। ২৫ জামায়াত-শিবির সমর্থক কর্মীকে আটক করেছে কোতয়ালী থানা ও ডিবি পুলিশ। তাদের মধ্যে বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী ছিলেন কি না আমরা জানি না। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার সকালে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে।

