গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)প্রতিনিধি: বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইনের গাড়ি বহরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও নেতৃবৃন্দদের আহতের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বুধবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরে নেক্সাস রেস্টুরেনেন্টে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ দাবি করেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য এডভোকেট আব্দুস সোবহান সুলতান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এডভোকেট আব্দুস সোবহান সুলতান বলেন- ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর আসনে ৩বার দলীয় মনোনয়ন পান। সর্বশেষ নমীনী হিসেবে তিনি এ আসনে বিএনপির একজন কান্ডারী। তিনি রাজনীতি করতে গিয়ে শ্যামগঞ্জের ট্রেন দুর্ঘটনাসহ একাধিক বিস্ফোরক মামলার আসামী। তিনি ৬টি মামলার এজাহারভুক্ত আসামী হয়েও দলীয় নেতাকর্মীদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে আসছেন। তিনি নিজ এলাকাসহ বিএনপির রাজনীতি একজন সহজ সরল নির্মোহ ব্যক্তি। তিনি জুলাই বিপ্লবের পরে নিজ নির্বাচনী এলাকায় চাঁদাবাজি, জবরদখল, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড কেউ করতে না পারে, সে জন্য তিনি প্রশাসনসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন।
গত ৬ জানুয়ারি উপজেলা সিধলা ইউনিয়নে বালিয়াপাড়ায় স্থানীয় যুবদল নেতার বাড়িতে নিমন্ত্রণে গাড়ি বহর নিয়ে যাচ্ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন। অনুষ্ঠানস্থলের আড়াই কিলোমিটার দূরে টেঙ্গুরিপাড়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় একদল লোক দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ইট পাটকেল মারতে মারতে গাড়ি হামলা চালিয়ে ইকবাল হোসাইনের গাড়ীসহ ৭/৮টি মোটর সাইকেল ভাংচুর করে। এসময় হামলাকারীরা রামদা দিয়ে কুপিয়ে ৫ জনকে জখমসহ আরও বেশ কয়েকজনকে আহত করে। হামলায় গুরুতর আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
তিনি বলেন- এ হামলার সঙ্গে জড়িতরা ইকবাল হোসাইনের রাজনৈতিক প্রতিদ্ব›দ্বী ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপি’র সদস্য আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণের অনুসারী। এ হামলার প্রতিবাদে ঘটনারদিন সন্ধ্যায় গৌরীপুর পৌর শহরে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং অন্যান্য নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করলে উত্তর বাজার এলাকায় আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ ও তার ছোট ভাই কার্জনসহ ২০-২৫ জন রামদা লাঠিসোটা নিয়ে মিছিলে আক্রমণ করে।
তিনি আরও বলেন- মঙ্গলবার গৌরীপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ বলেছেন, ২০১৮ সনের নির্বাচনে তিনি আমাদের দলীয় প্রার্থীকে সহযোগিতা করেছেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং তিনি ওই নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বায়ী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন এর বিরোধীতা করেছেন। আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে আদাজল খেয়ে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে মাঠে ব্যাজ করেছেন। শুধু তাই নয়, তার ভাই কামরুল ইসলাম কিরণ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন।একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদানের পথে ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইনের গাড়ি বহরে হামলা সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহনের প্রশাসনের কাছে দাবি জানান এডভোকেট সোবহান সুলতান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য হাবিবুল ইসলাম খান শহিদ, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আব্দুর রহমান বাবুল, গৌরীপুর পৌর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আলী আকবর আনিছ, গৌরীপুর পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক বেগ ফারুক আহাম্মদ, শাহজাহান কবির হিরা, গৌরীপুর সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ফারুক আহম্মেদ, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি মাহফূজুর রহমান মাহফূজ, ছাত্রদলের সাবেক নেতা মাইনুল ইসলাম শাহিনসহ বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

