ইরাকের জলসীমায় একটি তেলের ট্যাংকারে বিস্ফোরকবোঝাই ইরানি বোটের হামলায় বুধবার (১১ মার্চ) এক ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন এবং দুটি জাহাজ সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা এবং ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে আরও চারটি জাহাজে প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলা) হামলার পরপরই এই ঘটনা ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে সম্পৃক্ত জাহাজগুলোর ওপর সাম্প্রতিক এই হামলাকে ইরান যুদ্ধের বড় ধরনের বিস্তার হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে হামলার শিকার হওয়া জাহাজের সংখ্যা অন্তত ১৬টিতে পৌঁছেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে পারস্য উপসাগর ও সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে যায়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল কিংবা তাদের মিত্রদের জন্য ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি তেল রপ্তানি বন্ধ করার চেষ্টা করে, তবে ওয়াশিংটন আরও কঠোরভাবে দেশটিতে হামলা চালাবে। তিনি তেল কোম্পানিগুলোকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনীর প্রায় সবকিছুই ইতোমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইরাকি বন্দর কর্মকর্তাদের মতে, গতকাল গভীর রাতে হামলার শিকার হওয়া জাহাজ দুটি হলো মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘সেফ সি বিষ্ণু’ এবং মাল্টার পতাকাবাহী ‘জেফিরোস’। জাহাজ দুটি ইরাক থেকে জ্বালানি পণ্য বোঝাই করেছিল।
ইরাকের রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন সংস্থা সোমো জানিয়েছে, ‘সেফ সি বিষ্ণু’ জাহাজটি তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ একটি ইরাকি কোম্পানি ভাড়া নিয়েছিল। অন্যদিকে ‘জেফিরোস’ জাহাজটি বসরা গ্যাস কোম্পানির জ্বালানি পণ্য বহন করছিল।
সোমোর তথ্যমতে, ইরাকি জলসীমার ভেতরে এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে পণ্য স্থানান্তরের সময় দুটি জাহাজই হামলার শিকার হয়।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স

