লক্ষ্মীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন ও তার স্ত্রী রুবিনা ইয়াসমিন লুবনার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কশিশন (দুদক)।
নয়নের নামে ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪২ টাকা ও তার স্ত্রী রুবিনার নামে ১ কোটি ৮২ লাখ ৫১ হাজার ৫৮৯ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে দুদকের সমন্বিত চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক কামরুল ইসলাম মামলা দুটি দায়ের করেন।
অভিযুক্ত নয়ন লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি পেশায় লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের আইনজীবী।
দুদকের বিবরণ অনুযায়ী, নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়।
অনুসন্ধানে নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের নামে ৩৩ লাখ ১৪ হাজার ১৩১ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ১ কোটি ২৪ লাখ ৯৬ হাজার ১৯৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার ৩২৫ টাকা। এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় বাবদ ১ কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার ২৫৪ টাকা ব্যয়ের তথ্য রয়েছে।
সম্পদ ও ব্যয়সহ নয়নের মোট অর্থের পরিমাণ ২ কোটি ৭৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫৭৯ টাকা। এর বিপরীতে দায়-ঋণসহ বিভিন্ন খাত থেকে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৯৩৭ টাকা। ফলে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪২ টাকা।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নয়ন এসব সম্পদ অর্জন ও ভোগ দখলে রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারা এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১০৯ ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়া নয়নের স্ত্রী রুবিনা ইয়াসমিন লুবনার নামে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮০ হাজার ৮০০ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ২৪ লাখ ৬৬ হাজার ৪০ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। তার নামে মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৬২ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪০ টাকা। এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় বাবদ ২০ লাখ ৪ হাজার ৭৪৯ টাকা ব্যয়ের তথ্য পাওয়া যায়। ফলে সম্পদ ও ব্যয়সহ মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৮২ লাখ ৫১ হাজার ৫৮৯ টাকা।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব সম্পদ অর্জনের বিপরীতে লুবনার নামে গ্রহণযোগ্য আয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে সম্পদগুলো তার স্বামী নয়নের অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে গড়ে তোলা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। স্বামীর পক্ষে এসব সম্পদের মালিকানা অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

