Durnitibarta.com
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১ অক্টোবর ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ক্যাসিনো ও বেটিং সাইটের মাধ্যমে অর্থপাচার: বেনাপোলে সিআইডির অভিযানে গ্রেফতার ১

প্রতিবেদক
উবায়দুল্লাহ রুমি বিশেষ প্রতিবেদক
অক্টোবর ১, ২০২৬ ৫:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে কমিশন কেটে বিদেশে অর্থপাচার করে আসা একটি চক্রের আরও এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম স্নিগ্ধ সিকদার (৩১)। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি একাধিক অনলাইন জুয়া সাইটের পরিচালনাকারী ও এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোরে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। স্নিগ্ধ সিকদার নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটী ইউনিয়নের বালিয়াট গ্রামের স্বপন কুমার সিকদারের ছেলে।

সিআইডির নিয়মিত সাইবার মনিটরিং কার্যক্রমে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবল ম্যাচ এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশ থেকে পরিচালিত বেশ কিছু অনলাইন বেটিং ওয়েবসাইটের তৎপরতা বাড়ছিল। এসব ওয়েবসাইটের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো।

তদন্তে উঠে আসে, চক্রটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এজেন্ট নিয়োগ করে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে জুয়াড়িদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করত। পরবর্তীতে এজেন্টদের নির্দিষ্ট কমিশন পরিশোধ করে অবশিষ্ট অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি (ডিজিটাল মুদ্রা) প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে পাচার করে দিত।

এর আগে গত ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে এই মামলার অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক সুমন রায় (২৮)-কে গ্রেফতার করে সিআইডি। সুমন রায় আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং আর্থিক লেনদেন ও কাস্টমার সাপোর্ট নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি স্বীকার করে তার সহযোগী হিসেবে স্নিগ্ধ সিকদারের নাম প্রকাশ করেন।

সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলার পর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় (মামলা নং-২০, তারিখ: ১৭/০৫/২০২৬) স্নিগ্ধ সিকদারকে অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে তিনিও ১৬৪ ধারায় নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

এই অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রটি নির্মূলে বেশ কিছুদিন ধরে সারা দেশে সিআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া উল্লেখযোগ্য সদস্যরা হলেন:  টাঙ্গাইল থেকে গত ৭ জুন সোলায়মান (৪৭), সাগর মিয়া (২৮) ও জুয়েল রানা (৩২)। নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ১৬ জুন রায়হান খান (২১), পাভেল রহমান ভূঁইয়া (২৩) ও আবু জোবায়ের সানি (৩৬)। নড়াইল থেকে ১২ জুলাই জসিম উদ্দিন (৩৩) ও সুমন রায় (২৮)। রাজশাহী থেকে ১৯ আগস্ট সৈয়দ জামান (২৭) ও রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পী (২৮)। টাঙ্গাইল থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর বাবলু মিয়া (২৮), মনির হোসেন (৩০), নূর সাফায়েত ইপ্তি (২৪) ও শামীম আল মামুন (২৯)।

সিআইডি জানিয়েছে, এই অবৈধ জুয়ার নেটওয়ার্ক ও ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অর্থপাচারের সাথে জড়িত দেশি-বিদেশি চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

একই সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে যেকোনো ধরনের অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অনলাইন বেটিং সাইটে কোনো ধরণের আর্থিক লেনদেন না করতে এবং এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য থাকলে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি।