ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ছুরিকাঘাতে জহিরুল ইসলাম মিঠু (২৬) হত্যাকান্ডে তিনজনের নামে ও অজ্ঞাতনামা ৬ জনকে আসামী করে মামলা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিহত মিঠুর বাবা মোখলেছুর রহমান খান বাদী হয়ে ৩ জনের নামে ও অজ্ঞাতনামা ৬ জনকে আসামী করে গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
আসামীরা হলেন, পৌর শহরের এলবার্ট ডেভিট বাদলের ছেলে এলবার্ট ডেভিট রকি ও এলবার্ট ডেভিট সেন্টু (৪০) এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইকরামুল হোসেন মামুন।
গৌরীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই)মোঃ নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর গৌরীপুর পৌর শহরের পাট বাজার এলাকায় টিপু সুলতান জুয়েলার্সে স্বর্ণ বিক্রি করতে যান এলবার্ট সেন্টু। স্বর্ণ মাপ দেওয়ার পর দাম নিয়ে টিপুর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় সেন্টুর। এক পর্যায়ে সেন্টু দোকান থেকে বের হয়ে যান। পরে সেন্টু তার বড় ভাই ডেবিট রকিকে নিয়ে আবারও দোকানে আসেন। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও কথা কাটাকাটি হয়। মিঠু তাদের ঝগড়া থামাতে গেলে রকি তাকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে স্থানীয়রা মিঠুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।
এদিকে, মিঠুর মৃত্যু খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল করে। পৌর শহরের মধ্যবাজারে কয়েকটি দোকানে তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এসময় ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য আহত হন।
এবিষয়ে জানতে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি একরামুল হোসেন খান মামুনের নাম্বারে ফোন করলেও সেটি বন্ধ দেখায়।নিহত মিঠু উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের গড়পাড়া গ্রামের মোখলেছুর রহমানের ছেলে। তিনি গৌরীপুর সরকারি কলেজের অর্নাস চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
এদিকে,শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে মিঠু হত্যার বিচার ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে পৌর শহরে‘গৌরীপুরের সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে মানববন্ধন হয়। মানববন্ধন শেষে মিঠুর পরিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপটি প্রেরণ করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ স্মারকলিপি গ্রহণের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

