বিশেষ প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মমতার হাতের রান্নাকরা দুপুরের খাবার খেলেন ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার উম্মে সালমা তানজিয়া।
উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের খোঁজখবর নিতে বুধবার দুপুরে ঘোগা ইউনিয়নের জামগড়া পরিদর্শনে যান ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার উম্মে সালমা তানজিয়া। সেখানে গিয়ে তিনি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের যাবতীয় খোঁজখবর নেন বিভাগীয় কমিশনার। একপর্যায়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মামতাজ বেগম নিজে হাতে রান্নাকরে বিভাগীয় কমিশনারকে দুপুরের খাবার খাওয়ানোর ইচ্ছে পোষণ করেন মমতা। তার নিমন্ত্রনে সাড়া দিয়ে মমতার ঘরে বসেই দুপুরের খাবার খান বিভাগীয় কমিশনার উম্মে সালমা তানজিয়া।
বিভাগীয় কমিশনারের খাবার শেষে আবেগাপ্লুত হয়ে বিভাগীয় কমিশনারের গলা জড়িয়ে দুই চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন, মজিবের বেডি আমাগো ঘর দিছেন, অহোন ছেলে-মেয়ে নিয়ে সুখে-শান্তিতে পাঁকা ঘরে বসবাস করছি। আজ তানজিয়া ম্যাডাম (বিভাগীয় কমিশনার) আমার ঘরে বসেই আমার হাতের রান্নাকরা ভাত খেলেন, এতে আমার জীবনের সব দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে গেছে। ওনাকে (কমিশনার) দেখে আমরা বুঝতেই পারিনি ওনি অনেক বড় অফিসার।
মমতার হাতের খাবার খেয়ে ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার উম্মে সালমা তানজিয়া জানান, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তাদের স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ওরা এখন নিজের ঘরে সুখে-শান্তিতে বসবাস করছেন। মমতা নিজের বাড়ির আঙ্গিনার সবজি দিয়ে আমাকে দুপুরের খাবার রান্না করে খাওয়াছেন, মনে হলো অনেক দিন বাদে নিজের মায়ের হাতের রান্না করা খাবার খেলাম। সত্যিই মমতারা (আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা) অসাধারণ মন-মানসিকতার অধিকারী। ওরা আমার দেখা সবচেয়ে উজ্জীবিত, অতিথিপরায়ন, কর্মপরায়ন এবং কৌতূহলী মানুষ। নিজের ঘরের আঙ্গিনার শাকসবজি লাগিয়েছেন, কেউ কেউ সেলাই-মেশিন চালিয়ে এবং দোকান দিয়ে তাদের জীবিকানির্বাহ করছেন সত্যিই ওদের দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি।
বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম লুৎফর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোমানা রিয়াজ এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।

