Durnitibarta.com
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৭ মার্চ ২০২৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চিরকুট লিখে নববধূর আত্মহত্যা

প্রতিবেদক
Mym Office
মার্চ ৭, ২০২৪ ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বার্তা ডেস্ক: যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বরিশাল নগরে বিয়ের দেড় মাসের মাথায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন সাদিয়া আক্তার (২৩) নামে এক নববধূ। আত্মহত্যার আগে সাদিয়া একটি চিরকুট লিখে গেছেন। লাশের পাশে তার লেখা একটি চিরকুটটি পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার বিকালে নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডস্থ মতাসার এলাকার বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। সাদিয়া আক্তার ওই এলাকার মাহবুব আলম বেপারীর মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,গত ২৪ জানুয়ারি বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-করাপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের কাঞ্চন হাওলাদারের ছেলে রুবেল হাওলাদারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে সাদিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর পরই যৌতুকের দাবিতে সাদিয়ার উপর অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে রুবেল ও তার মা। প্রতি রাতে সাদিয়াকে মারধর করতেন রুবেল। সম্প্রতি রুবেল বিদেশ যাবার নাম করে সাদিয়ার পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুকের টাকা দিতে পারবে না বলে জানালে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় রুবেল। নির্যাতন সইতে না পেরে রবিবার বাবার বাড়িতে চলে আসেন সাদিয়া। মঙ্গলবার বিকালে ঘরের একটি কক্ষে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা আটকে দিয়ে গলায় ফাঁস দেন সাদিয়া। পরিবারের লোকজন টের পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে সাদিয়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে পুলিশে খবর দিলে কাউনিয়া থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ সময় তার লাশের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া যায়।

সাদিয়ার বাবা মাহবুব আলম বেপারী অভিযোগ করে বলেন- বিয়ের পর থেকেই রুবেল ও তার মা যৌতুকের দাবিতে আমার মেয়ের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। সেই নির্যাতন সইতে না পেরে আমার মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।

৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ হাবিবুর রহমান ফারুক বলেন, বিয়েতে সাদিয়াকে স্বর্ণালংকারের পাশাপাশি তার বরকে স্বর্ণের চেইন, আংটি ও একটি ফ্রিজ দেওয়া হয়। বিয়ের দুমাস না যেতেই বিদেশ যাওয়ার কথা বলে টাকা আনতে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় রুবেল।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন- গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে রিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।