ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
মানবিক মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামের অসহায় ও অসুস্থ আমিরুল ইসলাম ও জেসমিন বেগম দম্পত্তির জন্য নির্মিত স্বপ্নের ঘরের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় তাক্ওয়া অসহায় সেবা সংস্থার উদ্যোগে নির্মিত ঘরটির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলাম সীমা। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিআইও বেগম শাহীন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিন খান, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ একরাম হোসেন চৌধুরী পান্না, তাক্ওয়া অসহায় সেবা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তপু রায়হান রাব্বি, সদস্য আব্দুল্লাহ, রুবেল, আল-আমিন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ সাইফুলের ছোট ভাই হাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মানবিক সহায়তায় বদলে গেল জীবন
অভাবের সংসারে খড় ও কাপড় দিয়ে ঘেরা ছোট একটি ঝুপড়িতেই বসবাস করতেন ৫৫ বছর বয়সী আমিরুল ইসলাম। পলিথিন ও পুরাতন টিন ছিল ছাউনি। সেখানেই অসুস্থ স্ত্রী জেসমিন বেগম (৩৫) ও এক ছেলে-দুই মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতেন তারা। দিনমজুরি করে কোনোমতে সংসার চললেও কাজ না থাকলে অভুক্ত থাকতে হতো পরিবারকে।
প্রায় এক বছর আগে জেসমিন বেগম বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন। কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মানবিক ব্যক্তিদের সহযোগিতায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ঢাকায় দুই মাস চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু বসবাসের জন্য নিরাপদ ঘর না থাকায় দুর্ভোগ থেকেই যায়। সামান্য বৃষ্টিতেই টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ত, শীতে খড়ের বেড়ার ভাঙা ঘরে সন্তানদের নিয়ে থাকতে হতো চরম কষ্টে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় তাক্ওয়া অসহায় সেবা সংস্থার উদ্যোগে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের নিজস্ব জমিতে ১৬ ফুট লম্বা ও ১০ ফুট প্রস্থের একটি দোচালা টিনসেট ঘর নির্মাণ করা হয়।
আনন্দে ভাসছে পরিবার নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত আমিরুল বলেন, “অনেক কষ্টের পর আল্লাহ মুখ তুলে তাকিয়েছেন। এখন সন্তানদের নিয়ে নিরাপদে থাকতে পারব। যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারব না।”প্রতিবেশীরা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই আগের ঘরে পানি ঢুকত। এমন একটি পাকা টিনের ঘর তাদের জন্য স্বপ্নের মতো ছিল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএনও সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও তাক্ওয়া অসহায় সেবা সংস্থা তাদের উদ্যোগগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। তিনি বলেন, “গৃহহীনদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি এমন মানবিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিত্তবানরা সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে অসহায়ত্ব অনেকটাই কমে আসবে।”
সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তপু রায়হান রাব্বি বলেন, “সকলের সহযোগিতায় আমরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। সামান্য সহায়তায় যদি একটি পরিবার নতুন স্বপ্ন দেখতে পারে, সেটিই আমাদের সার্থকতা।”তিনি জানান, মানবিক মানুষের সহযোগিতায় এটি তাদের নির্মিত পঞ্চম ‘স্বপ্নের ঘর’।

