নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় এক কিশোরীকে তার বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ওই কিশোরীর মরদেহ কোথায় দাফন করা হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না তার মা।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদীর কোতালিরচর দড়িকান্দির সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত ওই কিশোরীর বাড়ি বরিশালে। সে তার বাবার সঙ্গে মাধবদীর একটি টেক্সটাইল কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। চাকরির সুবাদে তারা মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত।
নিহতের স্বজনরা জানান, বিলপাড় এলাকার স্থানীয় যুবক নুরুল ইসলাম ওরফে নুরা প্রায়ই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করত। বিয়েরও প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রায় ১৫ দিন আগে নুরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জনের একটি দল কারখানা থেকে ফেরার পথে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা স্থানীয়ভাবে মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আব্দুল আহমেদের মধ্যস্থতায় মীমাংসা করা হয়। তবে আমেনার পরিবার ইউপি সদস্যের কাছে অভিযোগ করায় ক্ষুব্ধ ছিল নুরা।
নিহতের বাবা অভিযোগ করেন, গত বুধবার রাত প্রায় ১০টার দিকে তিনি মেয়েকে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের দড়িকান্দি এলাকায় তার খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথে বরইতলায় পৌঁছলে নুরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয় যুবক তার কাছ থেকে মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মেয়ের সন্ধান না পেয়ে তিনি বাড়ি ফিরে ইউপি সদস্যকে বিষয়টি জানান। সকালে স্থানীয়রা একই এলাকার একটি সরিষা ক্ষেতে আমেনার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে গতকাল রাতেই মাধবদী থানায় মামলা করেন নিহত কিশোরীর মা ফাহিমা বেগম। এরই মধ্যে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার নরসিংদীর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) রেজাউল করিম মল্লিক।
পরে তিনি মাধবদী থানায় ব্রিফ করেন। রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, মেয়ের মায়ের দায়ের করা মামলায় নয়জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ধর্ষক হিসেবে চারজন এবং সালিশকারী হিসেবে পাঁচজন রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজন হলেন- এবাদুল্লাহ (৪০), আহম্মদ আলী মেম্বার (৬৩), মো. ইমরান দেওয়ান (৩২), মো. আইয়ুব (৩০) ও মো. গাফ্ফার।
ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত রয়েছে তাদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি।
এদিকে নিহত কিশোরীর মরদেহের ময়নাতদন্ত নরসিংদী সদর হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদা গুলশানারা কবিরের নেতৃত্বে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। মরদেহ বাড়িতে আনা হয়েছে।
কিশোরীর মা জানান, তার মরদেহ কোথায় দাফন করা হবে, তা অনিশ্চিত।
এদিকে নিহতের সৎ বাবা ও ভাই সিফাত এখনো মাধবদী থানা হেফাজতে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মেয়েটির নানি বাড়ি বরিশালে। সৎ বাবা আশরাফের বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলায়। মেয়ের প্রকৃত বাবা হাবিব মিয়া চট্টগ্রাম থাকেন। তাই, কিশোরীকে কোথায় দাফন করা হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বলা যাচ্ছে না কোথায় দাফন করা হবে।
মাধবদী থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, ধর্ষণের ঘটনার পর মেয়েটির পরিবার ইউপি সদস্যদের কাছে বিচার না চেয়ে থানায় আসার দরকার ছিল। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন এবাদুল্লাহ, আহম্মদ আলী, ইমরান দেওয়ান ও মো. আইয়ুব। তারা সবাই এজাহারভুক্ত আসামি। জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

