সুন্দরবনে অপহরণের ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও ২০ জেলের কোনো খোঁজ মেলেনি। মহাজনদের দাবি, জলদস্যুরা প্রত্যেক জেলের জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকা করে মুক্তিপণ চেয়েছে। টাকা না দিলে অপহৃতদের ক্ষতি করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গোপসাগরের নারিকেলবাড়িয়া ও আমবাড়িয়া এলাকায় মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে এসব জেলেকে অপহরণ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, অস্ত্রধারী সুমন ও জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা এ ঘটনা ঘটায়। অপহৃতরা পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোরকোল ও নারিকেলবাড়িয়া শুঁটকিপল্লির বাসিন্দা। তাদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা, কয়রা ও আশাশুনি উপজেলায়।
এদিকে, গত দেড় বছরে সুন্দরবন এলাকায় অন্তত ২০টি দস্যু বাহিনীর সক্রিয়তা বেড়েছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে জলদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধিতে জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করতে ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। এতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর পাশাপাশি নৌবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ অংশ নিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
দস্যু আতঙ্কে জেলেরা এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেবল দিনের বেলায় মাছ ধরতে পারছেন। দুবলার চরের শুঁটকিপল্লির মহাজনরা জানান, অপহরণের ঘটনায় স্থানীয় মৎস্য আহরণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’ সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী মো. নূর আলম শেখ বলেন, সুন্দরবনে দস্যুদের আধিপত্য বেড়ে যাওয়ায় বনজীবী ও ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে রয়েছেন। তিনি মহড়াভিত্তিক অভিযান নয়, বরং গোপন ছদ্মবেশে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদারের আহ্বান জানান।
দুবলার ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সুন্দরবন দস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে। এ অবস্থায় মাছের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, যেকোনো মূল্যে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা হবে। জেলে ও বনজীবীদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

