Durnitibarta.com
ঢাকাশুক্রবার , ৬ মার্চ ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের টর্পেডো হামলা

প্রতিবেদক
Dhaka Office
মার্চ ৬, ২০২৬ ৪:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন নৌবাহিনীর সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে প্রতিপক্ষের একটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন এই হামলায় ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ পুরোপুরি তলিয়ে গেছে।

পেন্টাগন এখন পর্যন্ত হামলাকারী সাবমেরিনটির নাম প্রকাশ না করলেও প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, একটি শক্তিশালী টর্পেডো ইরানি যুদ্ধজাহাজটির পেছনের অংশে সরাসরি আঘাত হানছে এবং বিশাল জলরাশি আকাশের দিকে ছুড়ে দিচ্ছে। হামলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই যুদ্ধজাহাজটির মূল কাঠামো মাঝ বরাবর দ্বিখণ্ডিত হয়ে সাগরে নিমজ্জিত হয়।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পেন্টাগনের এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে এই বিধ্বংসী আক্রমণকে ‘নীরব মৃত্যু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বিষয়টিকে পেশাদার সামরিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন যে, টর্পেডোটি লক্ষ্যবস্তুতে ‘তাৎক্ষণিক প্রভাব’ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা এখন পর্যন্ত ৩২ জন ইরানি নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছেন। তবে জাহাজটিতে প্রায় ১৮০ জন ক্রু ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার ফলে নিহতের সংখ্যা অনেক বড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউএস নেভি হিস্ট্রি অ্যান্ড হেরিটেজ কমান্ডের ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সর্বশেষ ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট মার্কিন সাবমেরিন ‘ইউএসএস টর্স্ক’ থেকে জাপানের একটি ৭৫০ টনের জাহাজে টর্পেডো ছোড়া হয়েছিল। এরপর থেকে স্নায়ুযুদ্ধ কিংবা পরবর্তী দশকের সংঘাতগুলোতে মার্কিন সাবমেরিনগুলো বিভিন্ন বিপজ্জনক ও সংবেদনশীল গোয়েন্দা মিশনে অংশ নিলেও কোনো জাহাজ ডোবানোর কাজে টর্পেডো ব্যবহার করেনি।

যদিও ১৯৯১ সালের ‘অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম’ থেকে শুরু করে ইরাক, আফগানিস্তান কিংবা সাম্প্রতিক ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ওপর হামলায় সাবমেরিন থেকে নিয়মিত ‘টমাহক’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু টর্পেডোর এই ব্যবহার আট দশকের মধ্যে এবারই প্রথম।

জেনারেল কেইন জানিয়েছেন যে, ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ডোবাতে আধুনিক প্রযুক্তির ‘মার্ক-৪৮’ হেভিওয়েট টর্পেডো ব্যবহার করা হয়েছে। ১৯৭২ সালে প্রথম মার্কিন নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া এই টর্পেডোটি বর্তমানে আধুনিক সোনার প্রযুক্তিতে সুসজ্জিত। প্রায় ৩,৮০০ পাউন্ড ওজনের এই মারণাস্ত্র পানির নিচ দিয়ে লক্ষ্যবস্তু খুঁজে বের করে এবং সরাসরি জাহাজের তলদেশে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়।

এই বিস্ফোরণে সৃষ্ট প্রচণ্ড গ্যাসের বুদ্বুদ জাহাজের প্রধান কাঠামো বা মেরুদণ্ড মুহূর্তেই ভেঙে দেয়, যার ফলে আইআরআইএস ডেনার মতো বড় জাহাজও দ্রুত দুই টুকরো হয়ে ডুবে গেছে। প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, পানিতে পুরোপুরি তলিয়ে যাওয়ার আগে যুদ্ধজাহাজটির সামনের অংশটি খাড়াভাবে ওপরের দিকে উঠে আছে, যা এই হামলার ভয়াবহতা প্রমাণ করে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস