Durnitibarta.com
ঢাকারবিবার , ৮ মার্চ ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা: এক সপ্তাহ পরও জেলেদের ভাগ্যে জোটেনি ভিজিএফের চাল

প্রতিবেদক
Dhaka Office
মার্চ ৮, ২০২৬ ১২:৫৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইলিশের অভয়াশ্রমে মাছ ধরায় চলমান নিষেধাজ্ঞার এক সপ্তাহ পেড়িয়ে গেলেও ভোলার ৭ উপজেলার নিবন্ধিত জেলেদের ভাগ্যে এখনও জোটেনি সরকারি ভিজিএফ চাল। এতে পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছেন বলে জানিয়েছেন কর্মহীন জেলেরা। তবে মৎস্য বিভাগ বলছে এবার গরিব জেলেদের চাল নিয়ে নয় ছয় রুখতে বিশেষ কৌশল গ্রহণের পরপরই শুরু করা হবে চাল বিতরণ।

সরেজমিনে সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের তেতুলিয়া নদী তীরবর্তী ও মেঘনা নদীর ইলিশা ও ভোলার খালের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কর্মহীন জেলেরা তীর্থের কাকের মতো সরকারি সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছেন এবং আবার কেউ কেউ জাল ও নৌকা-ট্রলার মেরামত করছেন।

জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার পর থেকে। শেষ হবে আগামী (৩০ এপ্রিল) রাত ১২টায়। এ দুই মাস ভোলার মেঘনা নদীর চর ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার ও তেঁতুলিয়া নদীর চর ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তম পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটারসহ মোট ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশের অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকবে। জেলায় প্রায় ২ লক্ষাধিক জেলে রয়েছেন, তাদের মধ্যে নিবন্ধিত জেলে রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার। তাদের বিপরীতে ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত অর্থাৎ চার মাসে ৪০ কেজি করে ৯০ হাজার ২শ জেলে পরিবারের জন্য ভিজিএফ চাল বরাদ্দ পেয়েছে মৎস্য বিভাগ। তবে নিষেধাজ্ঞাকালীন অনিবন্ধিত জেলেদের ভাগ্যে কিছুই জোটে না।

হোসেন মাঝি, আলাউদ্দিন মাঝি,সিরাজুল মাঝি ও জেলে হেলাল, আনোয়ার, সুমন ও বশির উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, সরকার গাঙ্গে অভিযান দিছে আমরাও অভিযান মেনে নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া থেকে বিরত আছি। এতে তো আমাদের রোজগার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আছে। রমজান মাস চলতেছে,রোজগার না থাকায় পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করতেছি। মৎস্য বিভাগ বলেছিল অভিযান শুরু হওয়ার পরপরই চাল দেবে, কিন্তু অভিযানের এক সপ্তাহ পেড়িয়ে গেলেও এখনো আমাদেরকে চাল দেওয়া হয়নি। কবে পাব তাও জানি না। অভিযানের আগে গাঙ্গে মাছ ধরে অল্প কিছু টাকা জমিয়ে রেখেছিলাম। বসে বসে খেয়ে তাও শেষ। দ্রুত চাল না পেলে সামনের দিনগুলো কিভাবে চলব। ঘরে চাল থাকলে শাক দিয়েও ভাত খাওয়া যায়। আমাদেরকে অতি দ্রুত চাল দেওয়ার দাবি জানাই।

এদিকে জেলেদের দুর্দশার কথার সাথে সুর মিলিয়ে ভোলা জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি মো.এরশাদ বলেন, নিষেধাজ্ঞার শুরুতে কর্মহীন জেলেরা চাল না পাওয়ায় কষ্টে দিন পার করছেন। অতিদ্রুত জেলেদের চালের দাবিও জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ইতোপূর্বে গরিব জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল স্থানীয় পর্যায়ে বিতরণ নিয়ে নানা অভিযোগ পেয়েছি। জেলেরা যেন এবার তাদের চাল ঠিকমতো বুঝে পান সেজন্য সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি বিশেষ মিটিংয়ের পরই জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। ইতোমধ্যে চালের ডিও লেটার উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। শিগগিরই চাল বিতরণ শুরু হবে।