Durnitibarta.com
ঢাকারবিবার , ৩০ আগস্ট ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বকেয়া বেতন-বোনাসের দাবিতে মীর আক্তার হোসেন লিঃ-এর শ্রমিকদের কর্মবিরতি

প্রতিবেদক
খাইরুল ইসলাম আল আমিন
আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৭:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দেশের অন্যতম শীর্ষ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড-এর অধীনে চলমান বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রায় তিন থেকে চার মাসের বকেয়া বেতন এবং সর্বশেষ ঈদুল আজহার বোনাস না পাওয়ায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের (DS3) গেটে তালা ঝুলিয়ে এবং ডোজার বসিয়ে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকেই কোম্পানিতে বেতন প্রদানের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ও অনিয়ম শুরু হয়। কখনো কখনো এক মাসের বেতন দুই থেকে চার কিস্তিতে প্রদান করা হতো। বর্তমানে মে (২০২৬) মাস থেকে শুরু করে টানা কয়েক মাসের বেতন এবং ঈদের বোনাস বকেয়া পড়ায় বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

গত ২৩ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের মধ্যে গত ২৭ আগস্ট বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে আন্দোলনরতদের ওপর হামলার একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে। যা মুহূর্তেই পটুয়াখালীর “পায়রা কুঞ্জ সেতু”, মাগুরা-কামারখালী রেল সংযোগ, সিরাজগঞ্জের “ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ৬ লেন” ও SASEC-2 এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অন্যান্য প্যাকেজে (DS4/DS5) ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

তবে হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। ঢাকা-সিলেট ৬ লেন উন্নয়ন প্রকল্পের (DS3) প্রজেক্ট ম্যানেজার নবীউজ্জামান-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শ্রমিকদের ওপর হামলার যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

প্রজেক্ট ম্যানেজার নবীউজ্জামান বলেন, “ব্যাংকিং জটিলতার কারণে আমাদের কোম্পানিসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে শ্রমিকদের যে বকেয়া বলা হচ্ছে, তা এক বছরের নয়; তিন থেকে চার মাসের। আমরা ইতোমধ্যে তাদের এক মাসের ফুল সেলারি ক্যাশে দেওয়ার জন্য সাইটে নিয়ে বসে আছি এবং আগামীকাল আরেক মাসের বেতন ব্যাংকে জমা হবে। এভাবে দ্রুত দুই মাসের বেতন পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে।”

তিনি আরও বলেন, “কোম্পানির শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্দেশ রয়েছে দ্রুততম সময়ে শ্রমিকদের পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার। আমরা তাদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি তারা যেন বেতন বুঝে নিয়ে কাজে ফেরেন। এটি দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্প, সরকার ও এডিবি (ADB)-সহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সাথে নিয়মিত কথা হচ্ছে। আশা করছি আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে আর্থিক সব সংকট কেটে যাবে।”

এদিকে আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ একাধিকবার কথা দিয়েও রাখেনি। তাই কেবল আশ্বাসে নয়, বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এসব উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।