ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় দিনে-রাতে সমান তালে চলছে লোডশেডিং। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভ্যাপসা গরমে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
সারাদিন তো আছেই এছাড়াও সন্ধ্যা হলেই লোডশেডিং শুরু হয়, তখন এই তীব্র গরমে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়ার টেবিলে বসতে হয় শিক্ষার্থীদের। স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের এমন দুর্বিষহ অবস্থায় পড়তে হয় প্রতিদিনই। বিশেষ করে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বৃদ্ধদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফুলপুর হাসপাতালের রোগীদের অবস্থা আরো ভয়াবহ। সেই সাথে বহির্বিভাগ তো আরো চরম পর্যায়ে। কারণ ভৌগোলিক সুবিধা থাকার কারণে (ধোবাউড়া, হালুয়াঘাট, নকলা, ফুলপুর, তারাকান্দা) পাঁচটি উপজেলার মানুষ অত্র হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সেবানেন প্রতিদিন প্রায় ১৫শ থেকে ২ হাজার মানুষ বর্হিঃবিভাগে, আর ইমারজেন্সি তো আছেই। এর মধ্যে ৫০ শয্যা হাসপাতালে যদি রোগী ছুটি দেয় ৭০/৮০জন নতুন ভর্তি থাকে ১শ থেকে ২শ জন।
তাক্ওয়া অসহায় সেবা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তপু রায়হান বলেন, দেশের প্রায় ৪৯টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় জনজীবন চরম বিপর্যস্ত। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি কয়েকগুণ বেড়েছে। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠে যাওয়ায় খেটে খাওয়া মানুষ, শিশু এবং বয়স্করা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। আর ফুলপুরে তো ২৪ ঘন্টার মাঝে পিডিবি প্রায় ১০ ঘন্টায় থাকে না বিদ্যুৎ। এছাড়াও পল্লী বিদ্যুতের তো কথাই নেই ২৪ ঘন্টার মাঝে মনে হয় অন্যের ঘণ্টায় খোঁজ পাওয়া যায় না।
বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ দিকে দ্রুত বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ফুলপুরবাসী।

