ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অর্থ আত্মসাৎ, বদলি বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আগামী ২ সেপ্টেম্বর অভিযোগের তদন্তের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে।
গত ২৪ জুন নান্দাইল উপজেলার শিক্ষকদের পক্ষে নগর কচুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুন্নাহার স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে মহা পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই কর্মকর্তা ২০২৩ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি নান্দাইল উপজেলায় যোগদান করার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি করে শিক্ষক শিক্ষিকাদের অতিষ্ট করে তুলছেন। এরই ফলশ্রুতিতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা মহা পরিচালক বরাবর এই অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামত ও সংস্কার খাতে বরাদ্দ দেয়া অর্থ থেকে বিদ্যালয় প্রতি ৩০ হাজার টাকা করে উত্তোলন করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, বরাদ্দের অর্থ দিয়ে সিসি ক্যামেরা কেনার সুযোগ না থাকলেও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলো থেকে ওই টাকা উত্তোলন করা হয়। এমনকি ভোটকেন্দ্র নয় এমন বিদ্যালয় থেকেও টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরে নির্বাচন কমিশন থেকে সিসি ক্যামেরার জন্য বরাদ্দ আসার পর বিদ্যালয় গুলোকে ২১ হাজার টাকা করে ফেরত দিয়ে বাকি ৯ হাজার টাকা করে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষা অফিসের আসবাবপত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে ঠিকাদারের কাছ থেকে নগদ ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা নেন কিন্তু এ টাকা দিয়ে কোন আসবাবপত্র ক্রয় করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও উন্নয়নমূলক কাজের নামে প্রতি বিদ্যালয় থেকে অর্থ আদায় করে আত্মসাৎ এবং উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সঙ্গে যোগসাজশ করে অবৈধভাবে বিল উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বদলি নীতিমালা অনুসরণ না করে পছন্দের শিক্ষকদের বদলি ও রিলিজ করা হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করে শিক্ষক বদলির ব্যবস্থা এবং এর মাধ্যমে শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি, নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষকদের সাময়িক সংযুক্তি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূতভাবে অফিসকক্ষে এসি লাগানো এবং চাকরিজীবী হিসেবে এসি এনটাইটেলমেন্ট না থাকলেও সেটি ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং নান্দাইলের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-১) স্বাক্ষরিত ২৪ আগস্টের একটি নোটিশে অভিযোগগুলোর বিষয়ে শুনানির জন্য সংশ্লিষ্টদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় নান্দাইল উপজেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেছার মুটোফোনে বক্তব্য জানতে চাইলে এ বিষয়ে কোন বক্তব্য দিয়ে রাজি নন বলে জানান।

