নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় সিরাজ নামে এক ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কের অভিযোগ তুলে এক ইউনিয়ন শ্রমিকদল নেতার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় উপজেলার ৮নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিরাজ (৫০) নামে এক ব্যক্তি চরজব্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে ফারজানা (৪৫) নামে এক নারীর সঙ্গে সিরাজের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে পাঁচ ছেলে সন্তান রয়েছে। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিরাজের অভিযোগ, ঘটনার দিন তাঁর স্ত্রী এবং বাবুল (৪০), খলিল (৩৫) ও গোলাম মাওলা (৪২) তাঁদের বাড়িতে আসেন। এ সময় বাবুল তাদের জন্য সিগারেট আনতে বললে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। প্রায় ৩০ মিনিট পর ফিরে এসে স্ত্রীর ও বাবুল কে একই কক্ষে দেখতে পান বলে দাবি করেন সিরাজ।
সিরাজ আরো জানান- এ নিয়ে জানতে চাইলে তাঁদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করা হয় বলে অভিযোগ করেন সিরাজ। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিরাজের দাবি, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে বাবুল ও খলিলের দীর্ঘদিনের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার বিচার চেয়েও প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন। ঘটনার দিন স্ত্রী ও বাবুলকে একই কক্ষে দেখতে পেয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করায় তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত অলি উদ্দিন বাবুল ৮ নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সদস্য সচিব। তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা সেলিম চেয়ারম্যানের খালাতো ভাই বলেও জানা গেছে। এবং খলিল বাবুলের আত্নীয়।
সিরাজ আরও দাবি করেন, ঘটনার পর থেকে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযুক্ত অলি উদ্দিন বাবুল মুঠোফোনে বলেন, সিরাজের পরিবারের সঙ্গে তাঁদের ঝগড়া হয়েছিল। এ কারণে সিরাজ তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করছেন।
তিনি এর সাথে সম্পৃক্ত নয়। সিরাজের মানসিক সমস্যা আছে বলে কল কেটে দেন।
এ বিষয়ে চরজব্বর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি পাওয়া গেছে। ছনখোলা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সাদ্দাম হোসেনকে অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

