স্টাফ রিপোর্টার, রংপুরঃ রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। দুর্যোগের পরপরই দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
গত ২৭ মার্চ বয়ে যাওয়া ঝড়ে উপজেলার কোলকোন্দ, লক্ষ্মীটারী ও নোহালী ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আলু, ভুট্টা, ধান, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি বসতঘর ও গাছপালারও ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। বিশেষ করে কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনিয়া, চর চিলাখাল ও চর মটুকপুর গ্রাম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। কোলকোন্দ ইউনিয়নের আবুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার।
প্রাথমিক পর্যায়ে ৫৫০ জন ক্ষতিগ্রস্তের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় ২৬টি পরিবারকে এক বান্ডিল করে ঢেউটিন এবং ৬৭টি পরিবারকে ৩ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনটি ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় আরও ৭৬৩টি পরিবারের জন্য ঢেউটিন বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে সকল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার আওতায় আনা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার জানান, “প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কেউ যেন সহায়তা থেকে বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।”
এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজীবুল করিম, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সবাইকে সহায়তার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
দুর্যোগের পর প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও মানবিক সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

