Durnitibarta.com
ঢাকারবিবার , ২১ জুন ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে স্থান না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশায় ঈশ্বরগঞ্জের আরিফ

প্রতিবেদক
Mym Office
জুন ২১, ২০২৬ ৫:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সদ্য সাবেক আহ্বায়ক আরিফ হাসান। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন না হওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আরিফ হাসান উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং আতাউর রহমানের ছেলে। তিনি জানান, ২০১৩-১৪ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি আঠারবাড়ি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদল ও বিএনপির কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, দলের দুর্দিন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিটি নির্দেশনা বাস্তবায়নে তিনি মাঠে সক্রিয় ছিলেন। অংশগ্রহণ করা শতাধিক কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও এখনও তার মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংরক্ষিত রয়েছে।

রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামে নিজের ত্যাগের কথা তুলে ধরে আরিফ হাসান বলেন, এক পর্যায়ে দুর্ঘটনায় তার হাত ভেঙে যায়। আহত অবস্থায় বাসায় চিকিৎসাধীন থাকলেও দলের কর্মসূচির খবর পেয়ে ভাঙা হাত নিয়েই রাজপথে নেমেছেন, মিছিল-মিটিং ও সমাবেশে অংশ নিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক সহিংসতায় আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালে তাকে দেখতে যান জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নিহাদ সালমান ডুলন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রায়হান শরীফ হলুদ। তারা তাকে রাজনীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।

আরিফ হাসান বলেন, বিএনপির দুর্দিনে বিভাগীয় সমাবেশ, ঢাকার মহাসমাবেশ, গোলাপবাগের সমাবেশ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের তারুণ্যের সমাবেশসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছি। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর পক্ষে কাজ করেছি এবং নির্বাচনের দিন আঠারবাড়ি ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ধানের শীষের এজেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আজ বিএনপির সুদিনে এসে আমি অবহেলিত ও বঞ্চিত। আমার অপরাধ কী, কোন কারণে আমাকে জেলা কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তা আমি জানি না। ছাত্রদলের রাজনীতি করার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমার সরকারি চাকরিও হয়নি। তারেক রহমান বলেছিলেন, বিএনপির দুর্দিনে মিছিলে থাকা শেষ সারির কর্মীও তার রাজনৈতিক পরিচয়ের সম্মান পাবে। অথচ আমি দুর্দিনে প্রথম সারিতে থেকেও আজ জেলা কমিটিতে স্থান পাইনি।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, আমার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক অবদান যাচাই-বাছাই করে আমাকে যোগ্য মূল্যায়ন দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো ত্যাগী ও সক্রিয় কর্মী তার প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।