ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ব্রহ্মপুত্রের চরে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর সঙ্গে ছাত্রদল নেতা মুক্তার হোসেনের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ১১টি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি কলেজ সংলগ্ন চরআলগী মৌজায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকারি কলেজ সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে চরআলগী মৌজায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছিল।
এ নিয়ে পূর্বেও একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
বুধবার দুপুরে উপজেলার ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেনের অনুসারীরা জনৈক সাত্তার, বাবুল ও সাদেকের জমিতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করলে জমির মালিকরা বাধা দেন। খবর পেয়ে মুক্তার হোসেনের শতাধিক অনুসারী ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে স্থানীয় নৌকার মাঝি ওয়াইজ উদ্দিন ওরফে পাবলিককে মারধর করে এবং নৌকায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
এরপর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ধাওয়া করলে তারা মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়।
উত্তেজিত জনতা সরকারি কলেজের সামনের সড়কে ১১টি ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা ছাত্রদল নেতা মুক্তার হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. স. ম. আতিকুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাস জানান, পুলিশ ঘটনার পর থেকে তৎপর রয়েছে এবং মোটরসাইকেল পুড়ানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযোগ পেলে যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গফরগাঁও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এনএম আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানা কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পেয়েছেন। মোটরসাইকেল কার ছিল তা এখনো নিশ্চিত নয়; হতে পারে একটি পক্ষের, না হয় পথচারীদের।’

