‘সরকারি রেটে জিলাপি বিক্রির’ কনটেন্ট তৈরি করে ভাইরাল হওয়া কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার দ্বীপচর নারায়ণপুরের কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাইজুল ইসলাম তাজুর ফেসবুক পেজ ‘তাজু ভাই ২.০’ হঠাৎ করেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুর থেকে পেজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক থেকে ‘উধাও’ হয়ে গেছে।
তাইজুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, পেজটি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এটি সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
তাইজুল ইসলামের সহযোগী শাহআলম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এটি মেটার (ফেসবুক) প্রযুক্তিগত সাময়িক সমস্যার কারণে ঘটেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। সিস্টেম হালনাগাদের কারণে এমনটি হওয়া স্বাভাবিক। স্বল্প সময়ের মধ্যে পেজটি আবার পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা তার। এ বিষয়ে তাইজুল ইসলামের মন্তব্য জানতে তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
‘তাজু ভাই টিম’-এর সমন্বয়ক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য কবিরুল ইসলাম তার ফেসবুক পেজ ‘অবেলা মিউজিক’-এ লিখেছেন, ‘আমাদের সকলের প্রিয় ভাইরাল তাজু ভাইয়ের তাজু ভাই ২.০ পেজটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। আমরা আশাবাদী, অতি শীঘ্রই তাজু ভাই ২.০ পেজটি আমাদের সকলের প্রিয় ভাইরাল তাজু ভাই ফেরত পাবেন।’
১০ হাজারেরও কম ফলোয়ার নিয়ে গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে জিলাপি বিক্রির একটি ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে তাজু আলোচনায় আসেন। উপজেলার নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে মোবাইলে ওই ভিডিও ধারণ করেন তিনি। এতে দেখা যায়, তাইজুল ইসলাম দোকানিকে জিজ্ঞাসা করছেন, জিলাপি কত দামে বিক্রি হচ্ছে, তা কি সরকারি দরের সঙ্গে মিলছে। সরল ও ভাঙা ভাঙা এ সংলাপই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। এরপর স্বল্প সময়ের মধ্যেই তার ফেসবুক পেজের অনুসারীর সংখ্যা কয়েক হাজার থেকে বেড়ে প্রায় ১০ লাখে (এক মিলিয়ন) দাঁড়ায়।
তাইজুলের বাড়ি নাগেশ্বরী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত নারায়ণপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামে। ছয় ভাইবোনের সংসারে সবার বড় এবং একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। অভাব-অনটনের কারণে কখনও বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। সর্বশেষ রাজধানীতে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এই কাজের ফাঁকে শখের বশে গ্রামে ফিরে মোবাইলে ধারণ করতেন নানা ভিডিও।
এ নিয়ে তাইজুল গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমার মা-বাবা অসুস্থ, দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবারের দুঃখকষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি কোনও সাংবাদিক না।’
মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তার পেজের ফলোয়ার বেড়ে এখন এক মিলিয়নের ওপরে। তবে আকস্মিক পেজটি উধাও হওয়ায় নেটিজেনদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা এজন্য তাইজুল ইসলামকে নিয়ে মেতে ওঠা অতি উৎসাহী কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের দায়ী করেছেন।

