Durnitibarta.com
ঢাকাশনিবার , ৩১ অক্টোবর ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈশ্বরগঞ্জে দুই কলেজে সাত পরীক্ষার্থী কেউ পাস করেননি

প্রতিবেদক
উবায়দুল্লাহ রুমি বিশেষ প্রতিবেদক
অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দুটি কলেজের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে এবার মোট সাতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও তাঁদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। এর মধ্যে একটি কলেজ থেকে মাত্র একজন এবং অপর কলেজ থেকে ছয়জন পরীক্ষায় অংশ নেন। দুই প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য শতাংশ।

শূন্য পাসের হার পাওয়া কলেজ দুটি হলো, চরজিথর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ এবং কোনাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ফলাফলের তালিকায় দেখা যায়, চরজিথর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ ও কোনাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ উভয় প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য শতাংশ।

চরজিথর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. সেলিম জানান, কাগজে কলমে কলেজটিতে ১০ জন শিক্ষক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে সাতজন শিক্ষক কর্মরত দেখানো হলেও তাঁদের কেউই কলেজে আসেন না। কলেজটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা কোনো বেতন ভাতা পান না। এ কারণে তাঁরা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় আগ্রহ হারিয়েছেন। দীর্ঘ ১০ বছর বিনা পারিশ্রমিকে পাঠদান করাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। বর্তমানে কলেজ শাখাটি কার্যত শিক্ষকশূন্য অবস্থায় রয়েছে। এ বছর কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একমাত্র শিক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছে।

অধ্যক্ষ মো. সেলিম আরও বলেন, শিক্ষকদের কলেজে ফিরিয়ে আনতে বারবার নোটিশ দেওয়া হলেও কোনো ফল হয়নি। এ অবস্থায় কলেজের গভর্নিং বডির সঙ্গে আলোচনা করে কলেজ শাখার নিবন্ধন বাতিলের জন্য আবেদন করবেন।

অন্যদিকে, কোনাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ থেকে এ বছর ছয়জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. আব্দুল লতিফ বলেন, এ বছরই প্রথমবারের মতো কলেজটি নিবন্ধন পেয়েছে। কলেজ শাখায় তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। পাশাপাশি স্কুল শাখার দুজন শিক্ষক অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কলেজে পাঠদান করাচ্ছেন। প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ছয়জনের কেউ পাস করতে পারেননি। শুরুতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। তবে আগামীতে আরও ভালোভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ভালো ফলাফল অর্জনের আশা করছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বেলায়েত হোসেন বলেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। কলেজ দুটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তার জানা নেই। তবে প্রতিষ্ঠান দুটির সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জের নয়টি কলেজ ও উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার ঈশ্বরগঞ্জ রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৮২ দশমিক ৫০ শতাংশ। এরপর রয়েছে, ঈশ্বরগঞ্জ আইডিয়াল কলেজে ৬০ দশমিক ৭১ শতাংশ, ঈশ্বরগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয় ও মহিলা কলেজে ৫৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ, উচাখিলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৫২ দশমিক ১৩ শতাংশ, ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ৫১ দশমিক ৯৯ শতাংশ, আঠারবাড়ী ডিগ্রি কলেজে ৩৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং সোহাগী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, উপজেলার ছয়টি মাদরাসার ফলাফলে দেখা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ ডিএস কামিল মাদরাসায় পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ, পিতাম্বরপাড়া হোসাইনিয়া কামিল মাদরাসায় ৫২ দশমিক ৫০ শতাংশ, বৈরাটি আলিম মাদরাসায় ৫০ শতাংশ, ধনিয়াকান্দি হামিদিয়া ফাজিল মাদরাসায় ৪৪ দশমিক ৬২ শতাংশ, উচাখিলা কেরামতিয়া আলিম মাদরাসায় ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং পানান ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ।
ফলাফলে উপজেলার অধিকাংশ কলেজ ও মাদরাসায় শিক্ষার্থীরা উত্তীর্ণ হলেও দুটি কলেজের শতভাগ শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক না থাকা এবং অন্যটিতে নতুন করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।