স্ত্রী ও দুটি সন্তান থাকা সত্ত্বেও বিদেশে বসে নিজ এলাকার নারী সিতারা আক্তারের (২২) সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেম করেন আওলাদ শেখ (৩৮)। পরে মোবাইল ফোনেই সারেন বিয়ের কাজ। গত ৩ অক্টোবর বিদেশ থেকে বাড়িতে আসেন আওলাদ। এসে সিতারার বাড়িতে তাকে নিয়ে গোপনে সংসার শুরু করেন তিনি। বিষয়টি প্রথম স্ত্রী জানার পর দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। একপর্যায় প্রথম স্ত্রীকে বেশি সময় দেওয়া শুরু করেন আওলাদ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে দ্বিতীয় স্ত্রী সিতারা বিষ পান করে আওলাদের বাড়িতে গিয়ে হাজির হন। পরে ওই বাড়ির লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে বিকালে তিনি মারা যান। নিহত সিতারার প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। তবে সিতারার পরিবারের দাবি, তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নিহত সিতারা ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চান্দাখোলা হড়েরকান্দী গ্রামের আয়ুব মোল্যার মেয়ে আর আওলাদ শেখ একই ইউনিয়নের বাংরাইল গ্রামের বিশাই শেখের ছেলে।
সিতারার মা ও তার পরিবার জানায়, স্ত্রী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও আওলাদ মালয়েশিয়া বসে সিতারাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মোবাইলে বিয়ে করেন। বিয়ের পর গত ৩ অক্টোবর দেশে ফিরে সিতারার বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন।
বৃহস্পতিবার সকালে সিতারা বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের বড় রাংরাইল গ্রামের স্বামী আওলাদের বাড়িতে যান। পরে বিকালে আওলাদের দুই বোন সিতারার লাশ নিয়ে তার বাবার বাড়িতে আসে।
এ সময় সিতারার পরিবারের লোকজন আওলাদের ওই দুই বোনকে মারধর করে। সিতারার পরিবারের অভিযোগ, সিতারাকে হত্যা করে লাশ বাবার বাড়িতে পৌঁছে দিতে এসেছে দুই বোন। তাই স্থানীয়রা তাদের মারধর করেছে।
আওলাদের প্রথম স্ত্রী দুই সন্তানের মা রেবেকা বেগম বলেন, সকাল ৮টার দিকে সিতারা আমাদের বাড়িতে এসে বলেন তিনি বিষপান করেছেন। পরে আমরা তাকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাই। সেখানে বিকালে তার মৃত্যু হয়। তবে কী কারণে তিনি বিষপান করেছেন সে বিষয় তিনি কিছু জানাতে পারেননি। তবে এ ঘটনার পর থেকে আওলাদ পলাতক রয়েছেন।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাদিক বলেন, নগরকান্দা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বিষপান করে মারা যাওয়া সিতারার লাশ নিয়ে আসে তার পরিবার। বিষয়টি জানার পর ওই লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

