Durnitibarta.com
ঢাকারবিবার , ৩ মে ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুঃসময়ে আসামি, সুসময়ে পদবঞ্চিত—বঞ্চনার দ্বিগুণ আঘাত শফিকুল-নিরবের

প্রতিবেদক
Editor
মে ৩, ২০২৬ ৭:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

তপু রায়হান রাব্বি
ফুলপুর(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বওলা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ফকির পরিবারের দুই ছাত্রনেতা শফিকুল ইসলাম ফকির ও সুবাদ হাসান নিরব এখন রাজনৈতিক বাস্তবতার এক কঠিন চিত্রের মুখোমুখি।
দুঃসময়ে মামলার আসামি হয়ে যাদের রাত কেটেছে আতঙ্কে, ঘুমাতে পারেননি নিজের ঘরে। সেই তারাই আজ সুসময়ে এসে পড়েছেন পদবঞ্চনার তালিকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংগঠনের নানা সংকটকালীন সময়ে মাঠে সক্রিয় ছিলেন বওলা ইউনিয়নের মুজিবুর রহমান ফকিরের ছেলে শফিকুল ইসলাম ফকির এবং ফজলুর রহমান ফকিরের ছেলে সুবাদ হাসান নীরব এই দুই নেতা। সম্পর্কে তারা দুজন চাচাতো ভাই।
আরো জানা গেছে, রাজনৈতিক একাধিক মামলায় বারবার কোর্টের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থেকেছেন তারা। তারিখের পর তারিখ, অনিশ্চয়তার পর অনিশ্চয়তা।সেই দিনগুলো ছিল দুশ্চিন্তা আর সংগ্রামের, যেখানে প্রতিটি সকাল শুরু হতো অজানা ভয় নিয়ে, আর প্রতিটি রাত শেষ হতো ক্লান্ত নিরাশায়। তবুও পিছু হটেননি তারা। বিশ্বাস করেছিলেন, একদিন ত্যাগের মূল্যায়ন হবেই। কিন্তু বাস্তবতা যেন ভিন্ন গল্প বলছে। যাদের কাঁধে ভর করে কঠিন সময় পেরিয়েছে সংগঠন, আজ সেই কাঁধই যেন অপ্রয়োজনীয় হয়ে গেছে। মামলা-হুলিয়ার ঝুঁকি নিয়েও তারা রাজপথ ছাড়েননি। কিন্তু সময় ঘুরতেই চিত্র পাল্টে গেছে।সংগঠনের কাঠামোয় তাদের জায়গা হয়নি, বরং উপেক্ষার শিকার হতে হয়েছে।
গত শুক্রবার (১ মে/২৬) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এর স্বাক্ষরিত অফিসিয়াল প্যাডে নুরুজ্জামান সোহেলকে সভাপতি করে ময়মনসিংহ উত্তর জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা প্রদান করেন। উক্ত কমিটিকে কেন্দ্র করে শফিকুল-নিরবের এই গল্প শুধু দুইজনের নয়, বরং তৃণমূল রাজনীতির এক নীরব আর্তনাদ—যেখানে ত্যাগ আছে, সংগ্রাম আছে, কিন্তু স্বীকৃতি নেই।
শফিকুল ইসলাম ফকির বলেন, ২/৩ বাচ্চার বাপ কমিটিতে জায়গা পেলো, ৫ই আগস্টের পরের নেতারাও জায়গা পেলো, ফ্যাসিস্ট আমলে একটা হরতাল মিছিল নাহ করেও জায়গা পেলো, নতুন জুনিয়র রাও জায়গা পেলো, অথচ আমাদের জায়গা হলো নাহ। বিগত সময়ে মামলা- হামলার স্বীকার হয়েও সকল আন্দোলন সংগ্রামে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে পুলিশের লাঠির আঘাত সহ্য করেও আন্দোলন করেছি। কোর্টের বারান্দায় বারান্দায় ঘুরছি। বাবার পকেট থেকে টাকা নিয়ে হাজিরা দিয়েছি। গাড়ি ভাড়া ম্যানেজ করেছি। কেউ এক টাকাও দেয়নি। শুধু দলকে দিয়ে গেছি দল থেকে কোন কিছু নেই নি। দলের জন্য, সবকিছু ত্যাগ করেও আজ কমিটিতে নাম নেই। দুঃখ একটাই যারা বিপদে পাশে ছিল না আজ তারাই পদ পেল। অভিযোগ কার কাছে দেবো, আমাদের তো জায়গার মতো সুযোগই নেই। কারন আমরা নেতাদের পাশে দাঁডিয়ে সেলফি তোলার জন্য কোন কাজ করিনি। করেছি দলের স্বার্থে তাইতো সেলফি তুলে সোশ্যাল মিডিয়া আসতে পারিনি।