Durnitibarta.com
ঢাকাসোমবার , ১২ অক্টোবর ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গৌরীপুরে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, উঠেছে ১৫–২০ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ

প্রতিবেদক
Mym Office
অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক,ময়মনসিংহ।।

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে অনিয়ম,স্বজনপ্রীতি ও লাখ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্যের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে চরম তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। লটারিতে প্রথম হয়েও চূড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করার প্রতিবাদে গৌরীপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর/২৬)দুপুরে গৌরীপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেসার্স মুন্সী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোঃ গোলাম কাজীয়েল হাজাত মুন্সী (শাহী মুন্সী) অভিযোগ করেন, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ইউএনও কার্যালয়ে লটারিতে ডৌহাখলা ইউনিয়নে তাঁর নাম প্রথম ওঠে। এর ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম রাখা হয়নি।
তিনি দাবি করেন,উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ ও ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব আব্দুর রহমান বাবুলের নেতৃত্বে একটি চক্র ডিলার প্রতি ১৫-২০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের ডিলারশিপ পাইয়ে দিয়েছে।
এদিকে ২নং গৌরীপুর সদর ইউনিয়নের মেসার্স আরিফ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোঃ নুরুজ্জামান জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানান, ১৮ বছর ধরে সততার সঙ্গে ব্যবসা করলেও রাজনৈতিক প্রভাবে তাঁর আবেদন বাতিল করে নীতিমালার শর্ত ভেঙে ‘মাহফুজ বিল্ডার্স’-কে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
তবে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ। প্রকাশিত তালিকাটিকে ‘ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন’ আখ্যা দিয়ে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন,প্রশাসন এখনো ফ্যাসিস্টমুক্ত হতে পারেনি;তারাই মূলত ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন করেছে। সার ডিলার নিয়োগের এই তালিকার বিষয়ে আমাদের দল কিংবা প্রতিমন্ত্রী মহোদয় কিছুই জানেন না। এ বিষয়ে আমাদেরকে একেবারেই অবহিত করা হয়নি।”
তিনি জানান,এই তালিকা বাতিল চেয়ে উপজেলা ও পৌর বিএনপির চার শীর্ষ নেতার যৌথ স্বাক্ষরে ইতোমধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে এবং মন্ত্রী মহোদয় তা বাতিলের আশ্বাস দিয়েছেন।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা জানান “ডিলার নিয়োগে কোনো অনিয়মের বিষয় আমার জানা নেই। ডিলার তালিকা করেছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।”
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান,“প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৪-১৫ জন করে আবেদন করেছেন, দেওয়া হয়েছে একজনকে। তাই অন্যরা সংক্ষুব্ধ হয়েছে। যাদেরকে দেওয়া হয়েছে নীতিমালা অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে। কেউ অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”