Durnitibarta.com
ঢাকাশুক্রবার , ১৩ মার্চ ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত : ঘরে-বাইরে চাপে ট্রাম্প

প্রতিবেদক
Dhaka Office
মার্চ ১৩, ২০২৬ ৩:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আর ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের গর্জন নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঠিক তখনই এক অভাবনীয় যান্ত্রিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ল মার্কিন বিমান বাহিনী। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে পশ্চিম ইরাকের আকাশে ওড়ার সময় বিধ্বস্ত হয়েছে মার্কিন সামরিক শক্তির অন্যতম স্তম্ভ— একটি ‘KC-135 রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট’।

যুদ্ধবিমানের প্রাণশক্তি জোগানো এই বিশালকার জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের পতন কেবল কারিগরি ক্ষতিই নয়, বরং ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক বিশাল কৌশলগত ও মানসিক ধাক্কা। কোনো শত্রুভাবাপন্ন দেশের হামলা ছাড়াই মাঝ-আকাশে দুই বিমানের এই সম্ভাব্য সংঘর্ষ এখন পেন্টাগনের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে নিশ্চিত করে যে, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযান চলাকালীন ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশালাকার জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান (Refueling Aircraft) বিধ্বস্ত হয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সাথে যৌথ অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন পশ্চিম ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশাল KC-135 রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট বিধ্বস্ত হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) নিশ্চিত করেছে, এটি কোনো শত্রুভাবাপন্ন হামলা বা নিজেদের ভুলের কারণে ঘটেনি, বরং সম্ভবত অন্য বিমানের সাথে সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা। দুর্গম এলাকায় বর্তমানে চিরুনি তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে।

‘বিমানে থাকা আরোহীদের মধ্যে কেউ বেঁচে আছেন কি না বা প্রাণহানি ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।’

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের একটি KC-135 রিফুয়েলিং (জ্বালানি সরবরাহকারী) বিমান নিখোঁজ বা বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়ে সেন্ট্রাল কমান্ড অবগত আছে।’

২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে মার্কিন বিমান বাহিনীর বেশ কিছু রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট। ছবি : সংগৃহীত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি চলাকালীন বন্ধুভাবাপন্ন আকাশসীমায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে এবং বর্তমানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

বিবৃতিটির ভাষা থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে, এই দুর্ঘটনায় দুটি বিমান জড়িত ছিল; সম্ভবত সেগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে অথবা খুব কাছ দিয়ে উড্ডয়ন (Close manoeuvres) করার সময় এই বিপত্তি ঘটে। তবে, দ্বিতীয় বিমানটি ‘নিরাপদে অবতরণ করেছে’ বলে জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করা হয় যে, ‘এই দুর্ঘটনা শত্রুভাবাপন্ন কোনো পক্ষের হামলা (Hostile fire) কিংবা নিজেদের বাহিনীর ভুল নিশানার (Friendly fire) কারণে ঘটেনি।’

এই বিমান দুর্ঘটনার আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, চলমান এই সামরিক অভিযানে তাদের সাতজন সদস্য নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে আরও ১৪০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আটজনের আঘাত গুরুতর বলে জানিয়েছেন পেন্টাগন মুখপাত্র শন পারনেল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার পর থেকে বৃহস্পতিবারের এই বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য সবশেষ বড় ধাক্কা।