নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: পাওনা টাকা উদ্ধার করে দেওয়ার নামে ১০ শতাংশ হারে কমিশন দাবি এবং সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় পাওনাদারের সঙ্গে অসহযোগিতা ও বিবাদীপক্ষকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খালেদের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে গত ২১ জুন ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মেহেদী হাসান।
অভিযোগে বলা হয়, ব্যবসায়িক লেনদেনের সূত্রে মোহাম্মদ কবির নামে এক ব্যক্তিকে ১০ লাখ টাকা প্রদান করেন মেহেদী হাসান। প্রথম কয়েক মাস চুক্তি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করা হলেও পরে মূলধন ও মুনাফা পরিশোধ বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে শাহবাগ থানায় উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে একটি লিখিত সমঝোতা চুক্তি সম্পাদিত হয় এবং এর বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন এসআই খালেদ।
মেহেদী হাসানের দাবি, প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পর তিনি সৌজন্য হিসেবে এসআই খালেদকে ৭ হাজার টাকা দেন। পরে এসআই খালেদ প্রতি লাখ টাকায় ১০ হাজার টাকা হারে কমিশন দাবি করেন। তিনি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে চুক্তি অনুযায়ী পাওনা টাকা আদায়ে সহযোগিতা কমে যায়। অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তী নির্ধারিত তারিখে এসআই খালেদ ও বিবাদী কবিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি এবং মূল চুক্তিনামাটিও এসআই খালেদের হেফাজতেই রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই খালেদ। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা ১০ শতাংশ কমিশন দাবি কিংবা টাকা গ্রহণের অভিযোগ “সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন”। তিনি দাবি করেন, অভিযোগকারীকে তাঁর পাওনা টাকা উদ্ধার করে দিতেই তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্ধারিত দিনে ফোন রিসিভ না করার কারণ হিসেবে তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ব্যস্ত থাকার কথা উল্লেখ করেন।
চুক্তিনামা নিজের কাছে রাখার বিষয়ে এসআই খালেদের বক্তব্য, এটি কোনো জোরপূর্বক নয়; বরং উভয় পক্ষের সম্মতিতেই তাঁর কাছে রাখা হয়েছে এবং সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের পর সংশ্লিষ্টরা তা ফেরত নেবেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি প্রথমে একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) মাধ্যমে থানায় আসে এবং পরে উভয় পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়।
এ বিষয়ে বিবাদী মোহাম্মদ কবিরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে দাখিল করা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত হলে তার ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করা এবং জনগণকে ন্যায়বিচার পেতে সহায়তা করা। ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ জড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হয় এবং বাংলাদেশ পুলিশের সুনাম ও ভাবমূর্তি নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জনআস্থা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

