Durnitibarta.com
ঢাকাশনিবার , ২৩ মে ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ধর্ষক মাদরাসার হোক বা বাইরের দ্রুত শাস্তি কার্যকর করতে হবে: আহমাদুল্লাহ

প্রতিবেদক
Dhaka Office
মে ২৩, ২০২৬ ৮:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়নের মতো মতো ঘটনা বেড়েছে আশঙ্কাজনভাবে। কিছু মাদরাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌন নিপীড়নের মতো ঘটনা সামনে এসেছে। এ জাতীয় ঘটনায় ধর্ষক মাদরাসার হোক কিংবা মাদরাসার বাইরের তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে শাস্তি কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন দেশের জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ।

হজের সফরে বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। সেখান থেকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি বলেছেন, আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নানাবিধ অনাচারের ঘটনা অস্বীকারের উপায় নেই। মাদরাসায় যৌন নিপীড়নের মতো ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। এ বিষয়ে ২০১৯ সালে একটি লিখিত সুপারিশমালা দিয়েছিলাম। নিজের কমেন্টবক্স থেকে তিনি তা দেখে নিতে বলেছেন।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, বর্তমানে হজের সফরে আছি বিধায় এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলার সুযোগ নেই। দেশে ফিরে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত প্রস্তাবনা পেশ এবং কাজ করার পরিকল্পনা আমার রয়েছে ইনশাআল্লাহ।

রামিসা হত্যার ঘটনায় শরীয়া আইন বাস্তবায়ন ও বনশ্রীতে মাদরাসা শিক্ষার্থীর ঘটনায় শায়খ আহমাদুল্লাহর নিরবতায় সামাজিক মাধ্যমে যে প্রশ্ন উঠেছে তা খোলাসা করে তিনি বলেছেন, রামিসার নৃশংস ঘটনা নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, আমি তখন হজের সফরের উদ্দেশে ঢাকা এয়ারপোর্টে। এয়ারপোর্টে থাকা অবস্থায়ই এ নিয়ে সংক্ষিপ্ত পোস্ট করি।

তিনি বলেন, এর কিছুক্ষণ পর যখন বনশ্রী মাদরাসার আরেক ট্রাজেডির নিউজ ছড়িয়ে পড়ে, তখন আমি মাঝ আকাশে নেটওয়ার্কের বাইরে। সৌদি আরব পৌঁছার পর ঘটনা জানতে পারলেও ওমরাহ পালনসহ সফরের নানাবিধ ব্যস্ততায় এদিকে আর সেভাবে মনোনিবেশ করতে পারিনি।

মাদরাসায় যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার জানিয়ে তিনি বলেন,  আমি অনেক আগে থেকেই বলে আসছি, ধর্ষক মাদরাসার হোক কিংবা মাদরাসার বাইরে—তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে শাস্তি কার্যকর করতে হবে।

তিনি বলেন, আবাসিক মাদরাসায় যৌন-অনাচার কমবেশি আছে, এটা অস্বীকারের কোনো সুযোগ নেই। আমরা যদি এ বিষয়ে নীরব থাকি বা উপেক্ষা করি, তাহলে সমস্যার সমাধান হবে না। বরং সমস্যা আরও বাড়বে। আর এ কারণেই নানা সময়ে এই অনাচার বন্ধে আমি লেখালেখি করেছি।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, মাদরাসার প্রতিটি কক্ষ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা, যথাযথ শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষকদের ফ্যামিলি বাসার ব্যবস্থা ও নিয়মতান্ত্রীক ছুটি, শ্রেণীকক্ষ ও আবাসন একসঙ্গে না রাখা, শিক্ষার্থীদের ঢালাও বিছানার পদ্ধতি বন্ধ করে পৃথক খাটের ব্যবস্থা, মহিলা মাদরাসায় পুরুষ শিক্ষক ও স্টাফ নিয়োগ না দেয়াসহ বেশ কয়েকটি পরামর্শ আমি ২০১৯ সালের এক পোস্টে তুলে ধরেছিলাম।

মাদরাসায় যৌন-অনাচার নিয়ে অনেকাংশে বাড়াবাড়ি রকমের প্রচারণা হয় দাবি করে তিনি বলেন, তবে এটাও মনে রাখতে হবে, আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বলাৎকারের ঘটনা যে ঘটে, সেটা যেমন সত্য, অনেক ক্ষেত্রে মিডিয়া সত্যের সাথে মিথ্যার রং মাখায় সেটাও সত্য। আবার কিছু কিছু জায়গায় অন্যকে রক্ষা করতে দুর্বল ইমাম বা আলেমকে ফাঁসানো হয়।

সাম্প্রতিক সময়ের ফেনীর ঘটনা উল্লেখ করে তিন বলেন, সম্প্রতি ফেনীতে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়েছেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক। ফরেনসিক পরীক্ষায় ওই কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে ইমামের নয়, বরং কিশোরীর বড় ভাইয়ের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে।

অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা ছোট ছোট মাদরাসাগুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রমিনেন্ট এবং বড় বড় মাদরাসায় এই ধরনের অভিযোগ তেমন শোনা যায় না। বরং মূল স্রোতের বাইরে কিন্ডার গার্টেনগুলোর মতো অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা ছোট ছোট মাদরাসাতেই এই ধরনের ঘটনার কথা বেশি শোনা যায়। তবে ঘটনা ছোট মাদরাসায় ঘটুক কিংবা বড় মাদরাসায়, এইসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

আমাদের প্রস্তাবনা বলা হয়েছে, হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আলেম ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এক্সপার্টদের নিয়ে একটি কমিশন গঠন করা হোক। যেখানেই এই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাবে, এই কমিশন সেখানে ছুটে যাবে এবং সরেজমিন তদন্ত করবে।

তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে অপরাধীকে বিচারের মুখামুখি করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আর কোনো মাদরাসায় যেন চাকরি নিতে না পারে তার জন্য ব্ল্যাকলিস্টে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে। আর যদি ঘটনা ভিন্ন হয়, সেটাও সংবাদ সম্মেলন করে জাতির সামনে উত্থাপন করবে।

এতে একদিকে যেমন এ ধরনের অপরাধের ঘটনা কমে আসবে, সেই সাথে এগুলো কোনটা বাস্তব আর কোনটা ষড়যন্ত্র সেটাও জাতির সামনে পরিষ্কার হবে। হজের সফর শেষে সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত পরিকল্পনা পেশ করার ইচ্ছা আছে ইনশাআল্লাহ।

মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার ভাবমূর্তি সংকট নিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, বর্তমানে দেশজুড়ে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার ভাবমূর্তির যে সংকট তৈরি হয়েছে, এই সংকট দূর করতে এবং মাদরাসার প্রতি জনসাধারণের আস্থা ও সুধারণা অটুট রাখতে এই ধরনের উদ্যোগ অনিবার্য হয়ে উঠেছে।

শেষে তিনি বলেন, দ্বীনের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এদেশের মাদারাসা-ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে আসুন সবাই একসাথে কাজ করি। এরপরও যদি আমরা উদাসীন থাকি, তবে তা সর্বনাশের কারণ হতে পারে।