ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার সোহাগী বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতার আসাদুজ্জামান উপজেলার বগাপুতা গ্রামের প্রয়াত সাদে আব্বাছের ছেলে। তিনি সোহাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন উপজেলা যুবলীগের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ রোমনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল সোহাগী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশের দাবি, আসাদুজ্জামান বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় সরকারবিরোধী নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং ঝটিকা মিছিল আয়োজনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাজ্জাদ রোমন জানান, আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১২ সালে ধর্ষণের অভিযোগে বরখাস্ত হয়েছিলেন সোহাগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ। ওই বছরের ৮ এপ্রিল সোহাগী বাজারে তার চেম্বারের পাশে সোহাগী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ১৪ এপ্রিল ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একাধিক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(১) উপধারায় জনস্বার্থে তাকে বরখাস্ত করেছিলেন।

