ময়মনসিংহ করেসপন্ডেন্ট :
ধর্ষণ মামলার আসামী এমএইচ ইউসুফকে (৪২) গ্রেপ্তারের দাবিতে ময়মনসিংহের ফুলপুরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমএইচ ইউসুফ পৌর শহরের আমুয়াকান্দা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবু আইয়ুবের ছেলে। মঙ্গলবার (১৭ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে পৌর শহরের হালুয়াঘাট রোডের সিকদার মার্কেটে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভিকটিম বলেন, ২০১৪ সালে পারিবারিক ভাবে এমএইচ ইউসুফের সাথে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী স্ত্রী হিসাবে সংসার করা অবস্থায় আমার একটি ছেলে সন্তান হয়।
এমতাবস্থায় তার আগের বিয়ের বিষয়টি জানার পর পারিবারিক কলহ দেখা দেখা দেয়। পরে পারিবারিক কলহের জেরে ২০১৮ সালে বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। তিনি বলেন, এরপর ২০১৯ সালে মানিক আহামেদ ডলারের সাথে আমার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের হওয়ার কিছু দিন পর থেকে ইউসুফ আমাকে পুনরায় বিয়ে করার কথা বলে দ্বিতীয় স্বামী মানিক আহামেদ ডলারকে তালাক দেওয়ার জন্য বাধ্য করলে ২০২১ সালে দ্বিতীয় স্বামী মানিক আহামেদ ডলারের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তালাক দেওয়ার পরে ইউসুফ আমাকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করে একাধিকবার ধর্ষণ করে।
এমতাবস্থায় গত ৩ মে তার বসত বাড়িতে নিয়ে আবারও ধর্ষণ করে।পরে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে বিভিন্ন তালবাহানা করে ওই দিন বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরদিন আবারও তার বাড়িতে গিয়ে বিয়ের কথা বললে বিয়ের কথা বলে ভরণ পোষণের দাবি করে। এই নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঝগড়া হলে ইউসুফের বড় ভাই সরকারী সেবা ৯৯৯ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিক্টিম নারীকে উদ্ধার করে। এই ঘটনার পর গত ৬ মে ইউসুফকে আসামীকে ফুলপুর থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। এরপর আমাকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে। এদিকে, মামলার ১১ দিন কেটে গেলেও আসামী গ্রেপ্তার হওয়ায় শঙ্কায় আছি। তিনি আরও বলেন, ইউসুফ একজন রাজনীতিবিদ। তিনি দুইবার পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। এছাড়াও তিনি একাধিক প্রতারণা মামলা, মাদক মামলা, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামী বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত এমএইচ ইউসুফের মোবাইল নম্বরে কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়। তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে ফুলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ মামুন বলেন, মামলার পর থেকে আসামী পলাতক আছে। তাকে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।

