হালুয়াঘাট প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা প্রেসক্লাবে কর্মরত স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের উপর হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। সোমবার দুপুরে শাহালম ও মতিউর রহমানের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি দল প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এসে উপস্থিত সাংবাদিকদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও আনন্দ টিভির ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি ওমর ফারুক সুমনসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়। পরে সাংবাদিক ওমর ফারুক সুমনকে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। এ ঘটনায় হালুয়াঘাট থানায় শাহালম ও মতিসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রেসক্লাবের পক্ষে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সুমন।
সাংবাদিক ওমর ফারুক সুমন বলেন, গত ২ ডিসেম্বর হালুয়াঘাট প্রেসক্লাব থেকে অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে একযোগে ১৪ জন সাংবাদিকের বৃহৎ একটি অংশ পদত্যাগ করি। একইসাথে ৪ ডিসেম্বর হালুয়াঘাট উপিজেলা প্রেসক্লাব নামে আরেকটি সংগঠনের আত্নপ্রকাশ ঘটে। এর পর থেকেই প্রতিপক্ষ কতিপয় নামধারী সাংবাদিকগণ বিভিন্ন সময়ে অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। তিনি বলেন, প্রেসক্লাবের স্বাভাবিক কর্মকান্ড বিঘ্ন ঘটানো আর প্রেসক্লাবের সংবাদকর্মীদের বিচ্ছিন্ন করতেই তাদের এ হামলা। উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি বাবুল হোসেন বলেন, সাংবাদিকগণ স্বাধীন। স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ তাদের নৈতিক অধিকার। এখানে যদি বহিরাগত লোকজন বা কতিপয় হলুদ সাংবাদিকগণ ষড়যন্ত্র করে সাংবাদিকদের পথ রুদ্ধ করতে চায় সেটা কখনো মেনে নেয়া হবেনা। যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলা করার ক্ষমতা সাংবাদিকরা রাখে। আগামী দিনে যদি পুনরায় এ ধরনের জগন্য কর্মকান্ড কেউ ঘটায় তাহলে সারাদেশের সংবাদকর্মীরা বসে থাকবেনা। আন্দোলন চলবে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানান তিনি। সাংবাদিকদের উপর হামলায় লাঞ্চিত হন দৈনিক কালের কন্ঠ প্রতিনিধি মাজহারুল ইসলাম মিশু, বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রতিনিধি সাইদুর রহমান রাজু, ইত্তেফাক প্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশের খবর প্রতিনিধি রফিকুল্লাহ চৌধুরী মানিক, কালবেলা প্রতিনিধি জুলফিকার আলী জুলমত, ভোরের ডাক প্রতিনিধি আকাশসহ আরও অনেকেই। এ ঘটনায় হালুয়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিনুজ্জামান খান বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

