Durnitibarta.com
ঢাকাসোমবার , ৪ মে ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গফরগাঁওয়ে হাজারো নারীর ভাগ্য বদলাচ্ছে পরচুলা শিল্প: স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প

প্রতিবেদক
Dhaka Office
মে ৪, ২০২৬ ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্বপ্ন আছে কিন্তু সুযোগ নেই’—তৃণমূলের হাজারো নারীর এই চিরচেনা বাস্তবতা বদলে দিচ্ছে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের একটি পরচুলা (উইগ) ফ্যাক্টরি। শিল্প উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ‘পিবাড়ীয়া গ্রুপ’-এর এই উদ্যোগে বর্তমানে গফরগাঁওয়ের এক হাজারেরও বেশি নারী কাজ করে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলছেন।

ফ্যাক্টরির শ্রমিক রাহেলার জীবন ছিল অভাব-অনটনের। দিনমজুর স্বামীর আয়ে সংসার চললেও ভবিষ্যতের কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। পিবাড়ীয়া গ্রুপের ফ্যাক্টরিতে কাজ পাওয়ার পর বদলে গেছে তাঁর দিনকাল। রাহেলা বলেন, “আগে শুধু স্বামীর ওপর ভরসা ছিল, এখন মাস শেষে নিজের আয় থেকে বেতন পাই। মেয়ের পড়াশোনার জন্য টাকা জমাচ্ছি। এখন আমি স্বপ্ন দেখার সাহস পাই।” রাহেলার মতো এখানে কাজ করা বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও হতদরিদ্র পরিবারের নারীরা আজ দক্ষ কারিগর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।

নারীর কর্মসংস্থান ও আর্থিক স্বাবলম্বিতার এই সাফল্য তুলে ধরতে রোববার (৪ মে) গফরগাঁও প্রেসক্লাবে ‘নারী কর্মসংস্থান বিষয়ক ওভিসি প্রকাশনা ও প্রেস কনফারেন্স’-এর আয়োজন করে পিবাড়ীয়া গ্রুপ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খালেদা আক্তার।

পিবাড়ীয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান রানা বলেন, “একজন নারী স্বাবলম্বী হলে একটি পরিবার দাঁড়ায় এবং সমাজ শক্তিশালী হয়। আমরা শুধু তাঁদের চাকরি দিইনি, বরং হাতে-কলমে দক্ষতা তুলে দিয়েছি। আমাদের কর্মীরা এখন বিশ্বমানের রপ্তানিযোগ্য পণ্য তৈরি করছেন। এটাই আমাদের ‘মানুষের কল্যাণে’ স্লোগানের বাস্তব রূপ।”

পরচুলা শিল্প বর্তমানে বাংলাদেশের একটি উদীয়মান রপ্তানি খাত। চুল সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রসেসিং, ডিজাইন ও ফিনিশিং—প্রতিটি ধাপে নারীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি এই পরচুলা এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। পিবাড়ীয়া গ্রুপের এই ফ্যাক্টরিটি স্থানীয়ভাবে বেকারত্ব দূর করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পিবাড়ীয়া গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার আজিজুল্লাহ তাহের, ডিজিটাল ম্যানেজার মেহেদী হাসান এবং ম্যানেজার মো. সাইফুল ইসলাম। বক্তারা বলেন, তৃণমূলের নারীদের এমন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে পারলে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।